সাভারের আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় একটি পোশাক কারখানার পাশে এলপিজি সিলিন্ডারবাহী লরিতে বিস্ফোরণের পর আগুন লাগার ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আগুনে সিলিন্ডারবাহী গাড়িসহ আরও পাঁচ-ছয়টি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জিরাবো এলাকার প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানার পাশে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যায় সিলিন্ডারবাহী একটি কাভার্ড ভ্যানে কয়েকটি সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। এরপর একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। আগুন আশপাশের আরও পাঁচ-ছয়টি গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সেখানে পাঁচ-ছয়টি গাড়িতে আগুন দেখতে পান তারা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
তিনি জানান, কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে এলপিজি সিলিন্ডার ছিল। তবে আগুনের সূত্রপাত ও মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যাবে।
আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনায় প্রথমে ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পরে পাশের একটি চায়ের দোকানে থাকা জয়নব (৫৫) নামে এক নারীও নিহত হন। তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকার মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী।
নিহত জয়নব ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরের একটি চায়ের দোকানে ছিলেন। তার মেয়ে সানজিদা আক্তার জানান, বেড়াতে এসে তার মা ওই দোকানে ছিলেন। অন্য পাঁচজনের মরদেহ কাভার্ড ভ্যান থেকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ২০ জনকে স্থানীয় মা ও শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ জানান, বিস্ফোরণে আহত ২৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের অধিকাংশই আশপাশের সবজি বিক্রেতা ও পথচারী।
আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, ঘটনাস্থলে সাতজনকে দগ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে দুজনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সময় কারখানাটিতে প্রায় সাড়ে তিনশ শ্রমিক কাজ করছিলেন। তবে প্রীতি গ্রুপের এফ অ্যান্ড এফ কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হেমায়েত উদ্দিন জানান, কারখানার ভেতরে কোনো শ্রমিক আটকে নেই। কারখানার সীমানাপ্রাচীরের পাশে ভবনের একটি কোণায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বিস্ফোরণটি সিলিন্ডার থেকে হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ ও মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে।
কেকে/ এমএস