কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নোয়াপাড়া নিবন্ধিত এফডিএমএন (রোহিঙ্গা) ক্যাম্পে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত বিজিবি, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), জেলা পুলিশ, কোস্ট গার্ড, আনসার, র্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে নোয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর উপ-অধিনায়ক মেজর মুবাশশির নাকীব তরফদারের নেতৃত্বে ৩০ সদস্যের বিজিবি টহলদল অভিযানে অংশ নেয়। অভিযানের সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাউছার সিকদার।
এ ছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) প্রতিনিধি সিনিয়র সহকারী সচিব খানজাদা শাহরিয়ার মান্নান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) রকিব এবং টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম অভিযানের তদারকি করেন।
অভিযানে এপিবিএনের ১৩০ জন, জেলা পুলিশের ৫৩ জন, বিজিবির ৩০ জন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ১৭ জন, আনসারের ১০ জন, র্যাবের ৯ জন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ৯ জন সদস্য অংশ নেন।
যৌথ বাহিনী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ক্যাম্পের বিভিন্ন ব্লকে তল্লাশি চালিয়ে ৯ জনকে আটক করে। তাদের মধ্যে একজনের কাছ থেকে একটি একনলা বন্দুক, ১৬ রাউন্ড তাজা গুলি এবং ২২টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত সাতজন এবং একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত একজন আসামিকেও আটক করা হয়েছে।
টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বিত এ ধরনের অভিযান রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় সন্ত্রাস, অস্ত্র, মাদক ও অনলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি, নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
কেকে/ এমএস