মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বাউশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ এবং যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত স্থানীয় জনগণ এবার যেকোনো মূল্যে নির্বাচন আয়োজনের জোর দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকালে মধ্য বাউশিয়া সরকার টাওয়ার সংলগ্ন আমবাগানে ‘স্বপ্নচূড়া ২০০৩’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সংগঠনটির সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাদী ইসলাম বাবুর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাউশিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক হাসমত আলী তাঁতী। বিশেষ আলোচক ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুল আহাদ মাস্টার।
সভায় প্রধান আলোচক হাসমত আলী তাঁতী বলেন, “সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার অজুহাতে দুটি ইউনিয়নে নির্বাচন বন্ধ থাকার কথা থাকলেও অদ্ভূতভাবে কেবল বাউশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আটকে রাখা হয়েছে। যাদের জনসমর্থন নেই এবং যারা জানে নির্বাচন হলে নিশ্চিতভাবে তারা পরাজিত হবে তারাই একের পর এক রিট করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করছে। এবার আর তাদের সেই সুযোগ দেওয়া হবে না।”
সভাপতির বক্তব্যে মাহাদী ইসলাম বাবু বলেন, “আইনের নানা মারপ্যাচে বাউশিয়ার মানুষ বিগত ৯ বছর ধরে ভোট দিতে পারছে না। সামনে সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রক্রিয়া চলছে অথচ এখানে আবারও নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। জনগণকে সাথে নিয়ে এবার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে।”
সুশীল সমাজের প্রতিনিধি আনিস দেওয়ান বলেন, “পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাস ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান প্রধানের মাধ্যমে এই রিট রিট খেলা শুরু হয়েছিল। এখনো একটি গোষ্ঠী নীল নকশা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণকে ভোটাধিকার থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে। বর্তমান সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতনের প্রতি আমাদের আহ্বান জনগণ যাতে তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে তিনি যেন সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বাউশিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিলন সরকার, ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবীব উল্লাহ, মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম ও মহিলা দল নেত্রী লাবনী আক্তার বক্তব্য রাখেন।
এ বিষয়ে জানতে বাউশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আতিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি যেটি আপনার শুনেছেন তা সঠিক। আমাদের কাছে এ বিষয়ে একটি মতামত চাওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান। আমরা সে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’
কেকে/ এমএস