জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রাজকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি (এসএমসি) গঠনকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফাহিমা আক্তারের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছেন অভিভাবক সদস্য পদপ্রার্থী মো. জহুরুল ইসলাম। তার অভিযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে তাকে সরিয়ে দিতে তার শিশুসন্তানের বিদ্যালয়ে ভর্তি বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে রাজকান্দা নিজ গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জহুরুল ইসলাম এসব অভিযোগ করেন। এ সময় তিন অভিভাবক সদস্যসহ শতাধিক অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে জহুরুল ইসলাম বলেন, তিনি বিদ্যালয়ের বৈধ অভিভাবক ও ভোটার। নির্ধারিত সময়ে অভিভাবক সদস্য পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তফসিল অনুযায়ী গত ১১ জুন মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হওয়ার কথা থাকলেও প্রার্থীদের বিদ্যালয়ে ডেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করানোর পর মৌখিকভাবে জানানো হয়, সেদিন যাচাই-বাছাই হবে না। তবে কার্যক্রম স্থগিতের কারণ তাঁকে লিখিতভাবে জানানো হয়নি।
জহুরুল ইসলামের অভিযোগ, নির্বাচনে তার প্রার্থিতা ঠেকাতে গত ১৩ জুলাই কোনো পূর্ব নোটিশ বা কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়েই তার শিশু শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে ইশরাক বিন জহুরের ভর্তি বাতিল করেন প্রধান শিক্ষক। এতে শিশুটির পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সে মানসিক চাপে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রার্থীদের না জানিয়েই পুনরায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আবেদন করলে গত ২ জুলাই সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইমরান হোসেন তদন্ত করেন। তবে তাকে কোনো নোটিশ দেওয়া বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। প্রকাশিত তফসিলে ভোট গ্রহণের সময় উল্লেখ না থাকায় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্রধান শিক্ষক ফাহিমা আক্তারের বিরুদ্ধে নির্বাচন পরিচালনায় নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে একটি পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও করেন জহুরুল ইসলাম। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। নিরপেক্ষ তদন্ত, বিতর্কিত কার্যক্রম স্থগিত এবং সব বৈধ ভোটার ও প্রার্থীর অংশগ্রহণে স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ফাহিমা আক্তারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার স্বামী মীর মাহমুদুন নবী জানান, তিনি অসুস্থ থাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন না।
সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিলের বিষয়ে তাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। ভর্তি বাতিল প্রধান শিক্ষকের এখতিয়ারভুক্ত। এসএমসি গঠনের কার্যক্রম উপজেলা শিক্ষা কমিটির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কমিটির সভাপতি করার একটি অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী, শিশুটির বয়স ভর্তির নির্ধারিত যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। শিশুটি এ পর্যন্ত মাত্র তিন দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান জানান, নিবার্চন নিয়ে একাধিক অভিযোগ আমাদের কাছে আছে। যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
কেকে/ এমএস