বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬,
১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম: শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী      চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গেপ্তার      শিল্পখাতে গ্যাস সংকট সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর      সুনির্দিষ্ট মামলা না থাকলে গ্রেপ্তার নয়, হাইকোর্টের এমন আদেশ স্থগিত      মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী      নিরাপদ খাদ্য কার হাতে      ইয়াবার ভয়াবহ থাবায় বাংলাদেশের তরুণরা      
দেশজুড়ে
ঠাকুরগাঁও এলজিডি নির্বাহী প্রকৌশলীর দুর্নীতির পাহাড়
হাসান বাপ্পি, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
ঠাকুরগাঁও জেলা এলজিডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস। ছবি: প্রতিবেদক

ঠাকুরগাঁও জেলা এলজিডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস। ছবি: প্রতিবেদক

ঠাকুরগাঁও জেলা এলজিডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস। নামে বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত কাজে নিজ দপ্তরের সরকারি গাড়ির সঙ্গে অন্য দপ্তরের সরকারি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া প্রকল্পের ফাইল স্বাক্ষর করার নামে ঠিকাদারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। 

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেছেন তিনি। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা কথা বলতে রাজি না হলেও জেলা প্রশাসক বলছেন অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

সূত্র বলছে, সরকারি প্রটোকল ভেঙে ব্যক্তিগত কাজে সপ্তাহে দুদিন গাড়ি ব্যবহার করেন তিনি। সপ্তাহে যার তেল খরচ প্রায় ৭ হাজার ২০০ টাকা, মাসে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা, যা বছরে গিয়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ টাকা। পরিবার ঢাকায় থাকার সুবাদে প্রতি সপ্তাহেই যাতায়াত করেন বিমান যোগে। তার এসব কাজের অন্যতম সহযোগী এলজিইডি’র সাবেক সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী সফিউল আলম (বর্তমানে পঞ্চগড় এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী)। যার সুফল তিনি নিজেও ভোগ করেছেন।

বিমানের টিকিটে তার সপ্তাহে খরচ প্রায় ১২ হাজার টাকা, আর প্রতিমাসে খরচ হয় প্রায় ৬০ হাজার ও বছরে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। অথচ সরকারি চাকরির ৫ম গ্রেডে এই কর্মকর্তার বাড়ি ভাড়া ১৭ হাজার বাদ দিয়ে মাসিক বেতন পান ৫৫ হাজার টাকা। তাহলে প্রশ্ন প্রতিমাসের তার আয়ের থেকে বাড়তি খরচের এত টাকা আসে কোথা থেকে? শুধু তাই নয়, ক্ষমতার অপব্যাবহার ও সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করেই প্রতিদিন অফিসে আসেন নিজের খেয়ালখুশি মতো। যার সুবিধা নিতে ভুল করেন না অফিসের অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও। 
 
অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং তার সদস্য নম্বর ছিল ৫৯। সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রমেও তিনি ভূমিকা পালন করতেন সক্রিয়ভাবে। তবে ২৪ এর ৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে নিজেকে গড়ে তুলেছেন ক্ষমতাসীন দলের অনুসারী হিসেবে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (এ্যাব) সঙ্গে যুক্ত থেকে পরিচালনা করেছেন নির্বাচনি কার্যক্রম।

একই অভিযোগ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা জানান, বিগত সময়ে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সদস্য ছিলেন তিনি। ২০২৪ এর ৫ আগস্টপরবর্তী সময়ে খোলস পাল্টে হয়ে গিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ একজন, রেখেছেন ক্ষমতাসীন দলের বড় নেতাদের সঙ্গেও সখ্য। প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার পর অফিসে ফাইল জমা দিতে হয় স্বাক্ষরের জন্য। ফাইল এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে যেতে স্বাক্ষরের জন্য ঘুষ দিতে হয় হাজার থেকে লক্ষ টাকা পর্যন্ত। আর টাকা না দিলে ফাইল পড়ে থাকে টেবিলেই। ঠিকাদারদের জিম্মি করে ও কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেন তিনি। তার স্ত্রী, স্বজনদের নামে ও বেনামে রয়েছে অবৈধ সম্পদের পাহাড়। তাই দ্রুত অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন।

ঠিকাদারসহ কার্যালয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীরাও তার ভয়ে মুখ খুলতে নারাজ। তার অফিসের গাড়ি চালকসহ বেশ কয়েকজন কর্মচারী জানান, মামুন বিশ্বাসের খুটির জোর অনেক, মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা ও হেড অফিসেও তার সখ্য আছে। তাই তিনি অনেক ক্ষমতা নিয়ে যা ইচ্ছে তাই করেন, কোনো নিয়মের তোয়াক্কা করেন না।

ঠাকুরগাঁও এলজিইডির সাবেক সিনিয়র সহকারি প্রকৌশলী সফিউল আলম বলেন, ‘স্যার (মামুন বিশ্বাস) হয়তো ভুল করে ফেলেছেন, বিষয়টি এবারের মতো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখলে ভালো হতো।’

অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করায় কোনো সদুত্তোর দিতে পারেনি প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস। বিভিন্ন অজুহাতে নিজের করা অনিয়ম ও দুর্নীতি অস্বীকার করেন তিনি। আর নিউজ না করার জন্য প্রস্তাব দেন চা খাওয়ার। 

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঠাকুরগাঁওয়ের সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, জবাবদিহি ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে ক্ষমতার অপব্যাবহার করে দুর্নীতিতে জড়াচ্ছেন এসব কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমনকে এগিয়ে আসতে হবে এবং যথাযত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা গেলে ধীরে ধীরে সরকারি দপ্তরগুলোতে দুর্নীতি কমে আসবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক জানান, সরকারি সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের যে নিয়মনীতি আছে তা মেনে চলার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরও জেলা পর্যায়ে কোনো অনিয়ম ঘটলে দুদক তা মনিটরিং করে ব্যবস্থা নেবেন।

এ বিষয়ে দুদকের কোনো কর্মকর্তা এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। 

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  ঠাকুরগাঁও এলজিডি   নির্বাহী প্রকৌশলী   দুর্নীতির পাহাড়  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close