বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬,
৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ড, ৬ জনের পরিচয় শনাক্ত      ছয় ব্যাংকে আটকে আছে ডেসকোর ২৫০ কোটি টাকা      পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়াবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া      এনবিআরের পাঁচ অঙ্গীকার      কলকাতায় আগুনে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু      তিন জেলার ডিসি প্রত্যাহার      রাষ্ট্রপতি হলেও জনগণের পাশে থেকে সেবা করব: মির্জা ফখরুল      
দেশজুড়ে
কাপাসিয়ায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ
গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪২ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় চরদুর্লভ খান আঃ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের ১১ জন শিক্ষক-কর্মচারীর স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ তাদের পক্ষে সিনিয়র শিক্ষক কফিল উদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হাফিজুল হকের কাছে জমা দিয়েছেন।

অভিযোগে স্বাক্ষরকারীরা হলেন— সিনিয়র শিক্ষক গোলাম ফারুক, কবির উদ্দিন, শাহিনা বেগম, বোরহান উদ্দিন হোসেন, আলা উদ্দিন, সুফিয়া বেগম, মীরা রানী, সিরাজুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক কবির হোসেন, অফিস সহকারী জাহাঙ্গীর হোসেন এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী তাজ উদ্দিন।

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন শুরু করার পর থেকেই মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব গোপন রাখা, শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাতা পরিশোধ না করা, পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির অনুমতি ছাড়াই বিদ্যালয়ের তিনটি বড় গাছ বিক্রি করা, সময়মতো ম্যানেজিং কমিটি গঠন না করা এবং এনটিআরসির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের আবেদন না করা।

শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজের কাছে রেখেছেন। পাশাপাশি গাছ বিক্রির অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো হিসাবও উপস্থাপন করা হয়নি।

সিনিয়র শিক্ষক কফিল উদ্দিন বলেন, প্রায় এক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের কোনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব শিক্ষক-কর্মচারীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। একাধিকবার হিসাব চাওয়া হলেও তা দেওয়া হয়নি। তাদের সন্দেহ, অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ও টিউশন ফি বাবদ প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া চার মাসের বিদ্যুৎ বিলও বকেয়া রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সিনিয়র শিক্ষক গোলাম ফারুক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে না। অনেকের প্রায় দুই বছরের বেতন বকেয়া রয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা টিউশন ফির বণ্টনযোগ্য অংশও শিক্ষক-কর্মচারীদের দেওয়া হচ্ছে না বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

সহকারী শিক্ষক কবির হোসেন বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়গুলোর সমাধানের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তারা উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে জ্যেষ্ঠ কোনো শিক্ষককে সাময়িক দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলাম জানান, অভিযোগের বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেবেন। প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রাখার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। তবে অভিযোগের অন্য বিষয়গুলো নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুল হক অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আগামী ৬ আগস্ট ম্যানেজিং কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে। ওই সভায় অভিযোগগুলো উপস্থাপন করা হবে এবং সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close