বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) নওসীনা আরিফ ও তার অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে নামজারি (মিউটেশন) কার্যক্রমে অনিয়ম, হয়রানি ও ঘুষ দাবির অভিযোগ করেছেন এক সেবাগ্রহীতা।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সনজিত মজুমদার।
সনজিত মজুমদার মোংলা উপজেলার হলদিবুনিয়া গ্রামের নিরঞ্জন মজুমদারের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ও ৬ নভেম্বর আমার দুই ভাই বিপ্রদাস মজুমদার ও বিপ্লব মজুমদারের নামে পৈত্রিক সম্পত্তির নামজারির জন্য মোংলা উপজেলা সহকারি কমিশনারের (ভূমি) দপ্তরে আবেদন করেন। কোন কারণ ছাড়াই আবেদন দুইটি খারিজ করেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) নওসীনা আরিফ। পরবর্তী ৩০ নভেম্বর আবারও আবেদন করা হয়। সেটিও খারিজ করে দেয়।’
তিনি ্আরও বলেন, ‘পরবর্তী ১০ ডিসেম্বর আমার ছোট ভাই বিপ্রদাস মজুমদারের নামে আবারও আবেদন করি। তখন সহকারি কমিশনারের (ভূমি) অফিস সহকারী এসএম নাইমুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে প্রতিটি মিউটেশন মামলার জন্য ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ওই টাকা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দিতে হবে বলেন। টাকা না দিলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবেদনে স্বাক্ষর করবেন না বলে জানানো হয়।’
পরে বিষয়টি নিয়ে নওসীনা আরিফের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হন বলেও অভিযোগ করেন সনজিত মজুমদার।
সনজিত মজুমদার বলেন, ‘বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিকার মেলেনি।’
ফলে তিনি ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেন।
সনজিত মজুমদার বলেন, ‘সরকারি নির্ধারিত ফি থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা দুর্নীতির শামিল এবং এতে সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।’
তিনি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও দ্রুত তার পৈতৃক সম্পত্তির নামজারি সম্পন্ন করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানতে এসএম নাইমুল ইসলামকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
নওশীনা আরিফ মুঠোফোনে বলেন, ‘তাদের ওয়ারিস কায়েম ঠিক না থাকার কারণে নাম জারি করিনি। কাগজপত্র ঠিক করে আনলে নাম জারি করে দেওয়া হবে।’
কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার কারণে বিক্ষিপ্ত অভিযোগ করছে বলে দাবি করেন তিনি।
কেকে/এমএ