মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভিটিকান্দি গ্রামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত আড়াইটার দিকে ১৪-১৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
এ সময় বাধা দেওয়ায় বাড়ির মালিক স্বপন শিকদারকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের ভিটিকান্দি গ্রামের উত্তরপাড়ায় মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে স্বপন শিকদারের বাড়িতে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আড়াইটার দিকে ১৪-১৫ জনের সশস্ত্র ডাকাত দল নদীপথে ট্রলারযোগে এসে স্বপন শিকদারের বাড়ির বারান্দার পকেট গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা নিজ নিজ কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন। পরে ডাকাতরা দরজা ভেঙে কক্ষগুলোতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে।
এ সময় গৃহকর্তা স্বপন শিকদার ডাকাতদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে ডাকাতরা ঘরে থাকা নগদ ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ছয় ভরি স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নদীপথে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাঈদ শিকদার বলেন, “ডাকাত দল বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ভুক্তভোগীদের চিৎকার শুনে আমরা ছুটে আসি। বাড়িটি মেঘনা নদীর তীরে হওয়ায় ডাকাতরা নদীপথে ট্রলারযোগে পালিয়ে যায়। আমরা কয়েকজন তাদের পিছু নিলে তারা গুলি করার হুমকি দেয়। ধারণা করছি, তাদের কাছে দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি পিস্তলও ছিল।”
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন বলেন, “স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, গজারিয়ার নদীতীরবর্তী এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে। গত ২২ জুলাই রাতে টেংগারচর ইউনিয়নের বড়ইকান্দি ভাটেরচর গ্রামের আবু তালেব খন্দকারের বাড়িতেও একই কায়দায় ডাকাতি হয়। ওই ঘটনায় চার ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৭০ হাজার টাকাসহ প্রায় ৯ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়।
এ ছাড়া সম্প্রতি বালুয়াকান্দি, টেংগারচর ও ভবেরচর ইউনিয়নের কয়েকটি নদীতীরবর্তী এলাকায় একইভাবে ডাকাতির চেষ্টার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব ঘটনায় নদীপথে ট্রলারযোগে সশস্ত্র ডাকাত দলের আসার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
কেকে/সাশ