শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তিনি পূর্ণ নিরাপত্তা, সাংবিধানিক অধিকার ও আইনি সহায়তা পাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এলে পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন। বিচারিক প্রক্রিয়ায় তার যেসব অধিকার রয়েছে, সেগুলো তিনি ভোগ করবেন। এরপর আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবে, সেটিই সবাইকে মেনে নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটা একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে সবচেয়ে বড় অপরাধীরও নাগরিক ও সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তিনি শেখ হাসিনা হোন বা সাকিব আল হাসান-সবার ক্ষেত্রেই আইন ও সংবিধানের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।’
‘সরকার কোনো ফ্যাসিস্ট বা মাফিয়া শাসনব্যবস্থা আর দেখতে চায় না এবং ভবিষ্যতে এমন কোনো ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না।’
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘তিনি যদি আসেন, পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে আসবেন। পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাবেন এবং তার পূর্ণ অধিকার ভোগ করবেন। যা যা করার দরকার, তা করা হবে।’
ব্রিফিংয়ে সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গও উঠে আসে। নিরাপত্তা চেয়ে সাকিবের সরকারের কাছে আবেদন এবং দেশে ফিরে মামলার মুখোমুখি হওয়ার ইচ্ছার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, ‘কেউ বাংলাদেশে এসে মামলা, আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে চাইলে তার নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
‘কেউ দেশে এলে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও আইনগত বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে হবে। আইন মেনে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’
সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমে এখনো আগের সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি শুধু কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থক হওয়ার কারণে সরকারি দায়িত্ব পালনে অযোগ্য হয়ে যান না। তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ না থাকলে তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারেন।’
তবে যারা প্রকাশ্যে ও সক্রিয়ভাবে আগের সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, তাদের বিষয়ে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
‘তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও পরিবর্তন হচ্ছে। তবে সরকার কোনো বিষয়ে অযথা তাড়াহুড়ো করতে চায় না। ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৮০ দিনে কী কী কাজ করেছে, সেটিরও হিসাব করা হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও পরিবর্তনগুলোকে এ সময়ের আলোকে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।’
গণমাধ্যমে আগের সরকারের প্রভাব এখনো রয়েছে-সাংবাদিকদের এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি সরকারও খেয়াল করছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কী ঘটেছে এবং সে সময় যারা বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সে বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।’
‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকতেই পারে। কিন্তু অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকলে সেটি অবশ্যই আইনগতভাবে বিবেচনা করতে হবে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে আইন ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।’
কেকে/এমএ