জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাবি করেছে প্রসিকিউশন। তাদের ভাষ্য, আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ব্যাপক মাত্রায় প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে এবং পুলিশের হিসাব অনুযায়ী এ সময় ৩ লাখ ৫ হাজার ৩১১ রাউন্ড গুলি খরচ করা হয়।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত নেতার বিরুদ্ধে পঞ্চম দিনের মতো প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম আদালতে বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে চায়না রাইফেল, ৭ দশমিক ৬২ মিলিমিটার রাইফেল, এলএমজি, এসএমজি, পিস্তল, শটগান ও রিভলভারসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।”
তিনি দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে স্থলপথের পাশাপাশি হেলিকপ্টার থেকেও গুলি ছোড়া হয়েছিল।
যুক্তিতর্কে প্রসিকিউশন জানায়, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর পুলিশের সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ঘিরে মোট ৩ লাখ ৫ হাজার ৩১১ রাউন্ড গুলি ব্যবহারের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে শুধু ঢাকাতেই ৯৫ হাজার ৩১৩ রাউন্ড গুলি খরচ হয়। এছাড়া দেশের ৪১ জেলায় ৪৩৮টি স্থানে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
এদিন আদালতে ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য তুলে ধরা হয়। প্রসিকিউশন ২০২৪ সালের ১১ জুলাই ওবায়দুল কাদের ও সাদ্দাম হোসেনের মধ্যে হওয়া একটি ফোনালাপ আদালতে উপস্থাপন করে।
তাদের দাবি, ওই কথোপকথন এবং পরবর্তী বিভিন্ন বক্তব্য আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দিতে ভূমিকা রেখেছিল।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় আদালতে কিছু অডিও ও ভিডিও উপস্থাপন করা হয়, যা প্রসিকিউশনের দাবি সমর্থনে ব্যবহৃত হয়েছে।
কেকে/সাশ