আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ২০ মিনিটে তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে নেওয়া হয়।
পরে তাদের আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। হাজতখানার ইনচার্জ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোর্শেদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছেন।
এর আগে রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত জুনে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী মরিয়মের বিয়ে হয়। আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় তাদের বিয়ে হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম ও প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে নিয়ে শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে পরিবারের কাছে অভিযোগ করেছিলেন মরিয়ম।
মরিয়মের পরিবারের অভিযোগ, এর ধারাবাহিকতায় রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ইসলাম ফোন করে তার বাবাকে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন। তিনি বাসায় গিয়ে দেখতে পান, সেখানে অনেক লোকজন উপস্থিত। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে মেয়েকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় বিছানার ওপর তার লেখা একটি কথিত সুইসাইড নোট পাওয়া যায় বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলাটি তদন্ত করছে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ।
কেকে/সাশ