ঢাকার আশুলিয়ায় সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৬) অপহরণের অভিযোগে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) এক শিক্ষার্থীসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক দুজনের বিরুদ্ধে অপহরণের ঘটনায় সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে আটক দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে আশুলিয়া থানা পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ৩২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তৌহিদুর ইসলাম সানভি ও নাজিম। তৌহিদুর ইসলাম সানভি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা জেলা উত্তরের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বলে জানা গেছে।
পুলিশের দাবি, স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনায় মূলহোতা শাকিল (২৩) এখনো পলাতক রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ওই স্কুলছাত্রী প্রতিদিন সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে যাতায়াত করত। অভিযোগ রয়েছে, বখাটে শাকিল ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল।
গত সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে স্কুলছাত্রীকে স্কুলে দিয়ে আসেন তার মা আরিফা আক্তার। পরে দুপুর সোয়া ২টার দিকে মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে গেলে তিনি জানতে পারেন, দুপুর ২টার দিকে স্কুলের গেটের সামনে থেকে শাকিল ও তার সহযোগীরা অসৎ উদ্দেশ্যে ওই ছাত্রীকে ফুঁসলিয়ে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে গেছে।
এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর মা আরিফা আক্তার বাদী হয়ে মঙ্গলবার আশুলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে আশুলিয়ার মধুপুর এলাকার শাকিলকে প্রধান আসামি করা হয়।
পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় অপহরণের ঘটনায় গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তৌহিদুর ইসলাম সানভি ও নাজিমের সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতার তথ্য পাওয়া যায়। পরে তাদের আটক করা হয়।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, “স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে সানভি ও নাজিমের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনায় তাদের সরাসরি ইন্ধন ও সহযোগিতার বিষয়টি উঠে এসেছে। এ কারণে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
পলাতক শাকিলকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কেকে/সাশ