মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় জুলেখা আক্তার (২৭) নামে দুই সন্তানের জননীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত জুলেখা ওই গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী মাসুম মিয়ার স্ত্রী। তার স্বজনদের অভিযোগ, এনজিওর ঋণের চাপ, স্বামীর পরকীয়া এবং শাশুড়ি-ননদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে মাসুম মিয়ার সঙ্গে জুলেখার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে মাসুম সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। সন্তানদের নিয়ে জুলেখা শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, বিদেশে যাওয়ার আগে মাসুম বিভিন্ন এনজিও থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ঋণ নেন। সেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো। এছাড়া মাসুম প্রবাসে থেকেও অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন জুলেখার স্বজনেরা। এসব বিষয় নিয়ে জুলেখার ওপর মানসিক নির্যাতন চলছিল বলে তাঁদের দাবি।
নিহতের বড় বোন জোহরা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “সৌদি যাওয়ার পর থেকেই মাসুম ফোনে জুলেখাকে নিয়মিত তালাক দেওয়ার হুমকি দিত। ঘটনার আগের দিন ওর শাশুড়ি জোছনা, ননদ নুরুন্নাহার ও শামসুন্নাহার তাকে শারীরিক নির্যাতন করে। আর গত রাতে মাসুম ফোন করে জুলেখাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বলে ‘তুই মরে যা’। এই যন্ত্রণা সইতে না পেরে আমার বোন নিজের জীবন দিল।”
নিহতের মেয়ে সিনথিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, “রাতে বাবা ফোন দিয়ে মাকে অনেক গালিগালাজ করে। এরপর মা ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না বাঁধে। আমাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। আমি চিৎকার করলে আশপাশের মানুষ এসে দরজা ভেঙে মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।”
এদিকে ঘটনার পর থেকেই নিহতের শাশুড়ি জোছনা এবং দুই ননদ নুরুন্নাহার ও শামসুন্নাহার বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
গজারিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাব্বির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেলায় পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
কেকে/সাশ