ইসলামে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। হাদিসে এ দিনকে দোয়া কবুলের বিশেষ সুযোগের দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহর কাছে দোয়া করা বান্দার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ — সুরা মুমিন: ৬০।
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘দোয়াই ইবাদত।’ — জামে তিরমিজি: ২৯৬৯; সুনানে আবু দাউদ: ১৪৭৯।
জুমার দিনে দোয়া কবুলের বিশেষ সময়
সহিহ হাদিসে জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময়ের কথা এসেছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার আশা করা যায়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। —সহিহ বুখারি: ৯৩৫; সহিহ মুসলিম: ৮৫২।
দোয়া কবুলের সেই সময়টি কখন—এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে দুটি প্রসিদ্ধ মত রয়েছে।
প্রথম সময়: খুতবা শুরু থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত।
হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.)-এর বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (স.) জুমার দিনের বিশেষ সময় সম্পর্কে বলেছেন, ইমাম মিম্বরে বসা থেকে নামাজ শেষ করা পর্যন্ত সময়টি সেই বিশেষ সময়। — সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৯।
দ্বিতীয় সময়: আসরের পর দিনের শেষ অংশ।
আরেক হাদিসে জুমার দিনের শেষ সময়ে দোয়া কবুলের সময় অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, কোনো মুসলিম সে সময়ে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে তিনি তাকে তা দান করেন। তাই তোমরা তা আসরের পর দিনের শেষ সময়ে অনুসন্ধান করো। — সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৮।
এ কারণে জুমার দিন মুসলমানদের উচিত নামাজ ও খুতবার প্রতি মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি বেশি বেশি দোয়া, ইস্তিগফার ও জিকির করা। বিশেষ করে আসর নামাজের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত সময়টিতে নিজের প্রয়োজন, পরিবার, জীবিকা, ক্ষমা ও কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করা যেতে পারে।
তবে দোয়া হতে হবে বৈধ বিষয়ের জন্য। হারাম উপার্জন, গুনাহের কাজ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার মতো বিষয়ে দোয়া করা উচিত নয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘আমি নিকটেই আছি; আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে, আমি তার আহ্বানে সাড়া দিই।’— সুরা বাকারা: ১৮৬।
তাই জুমার দিনকে অবহেলা না করে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে দিনটি কাটানো উচিত। আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করলে তিনি বান্দার জন্য উত্তম ফয়সালা করবেন—এই বিশ্বাস নিয়েই দোয়া করা মুমিনের কর্তব্য।
কেকে/সাশ