রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬,
১ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: জ্বালানি সংকট পুরোপুরি কাটাতে কমপক্ষে দুই বছর লাগবে : অর্থমন্ত্রী      অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে টাইগারদের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন      অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ      জবাবদিহিতা থাকলে সরকারের পদক্ষেপ জনকল্যাণমুখী হবে      দুপুরের মধ্যে যেসব জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস      টুইট করে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যাবে না, যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান ইরানের      প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফর : নিরাপত্তায় পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ      
রাজনীতি
সিভিল সার্ভিস থেকে নীতি নির্ধারণী অঙ্গনে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ইসমাইল জবিউল্লাহ
আলতাফ হোসেন
প্রকাশ: রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫১ পিএম আপডেট: ১৬.০৮.২০২৬ ৪:০২ পিএম
ইসমাইল জবিউল্লাহ

ইসমাইল জবিউল্লাহ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে সাবেক প্রভাবশালী আমলা ও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ক্যাবিনেট মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে কাজ, গবেষণা, নীতি প্রণয়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার কারণে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তার অন্তর্ভুক্তি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন, আর্থিক ও অবকাঠামোগত প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপির নীতি ও গবেষণা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ইসমাইল জবিউল্লাহ একটি দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় কর্মজীবনের অধিকারী হয়েছেন।

জন্ম, পরিবার ও শিক্ষাজীবন

মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ১৯৫০ সালে তৎকালীন নোয়াখালী জেলার বর্তমান লক্ষ্মীপুরের রামগতি থানাধীন শান্তির হাট (চরকাদিরা) মোক্তারবাড়ীতে তার মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম সুজাউদ্দিন আহমেদ ছিলেন লক্ষ্মীপুর সামাদ একাডেমির একজন স্বনামধন্য ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষক। পরবর্তীতে তার পরিবার লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার শমসেরবাদ গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।

পিতামাতার তৃতীয় সন্তান ইসমাইল জবিউল্লাহ ছাত্রজীবনেই তার মেধা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৬৫ সালে লক্ষ্মীপুর সামাদ একাডেমি থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের মেধাতালিকায় ১২তম স্থান অর্জন করেন। ১৯৬৭ সালে লক্ষ্মীপুর কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা বোর্ডের মেধাতালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালে ইংরেজি সাহিত্যে বিএ (অনার্স) এবং ১৯৭১ সালে অনুষ্ঠিত স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাপানের এডিবি ইনস্টিটিউট থেকেও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

ছাত্রজীবনেই সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা

ইসমাইল জবিউল্লাহর কর্মজীবনের মতো তার ছাত্রজীবনও ছিল বহুমাত্রিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হলের প্রথম ব্যাচের আবাসিক ছাত্র হিসেবে ১৯৬৭ সালে হল ছাত্র সংসদের প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। বিতর্ক, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা কার্যক্রমে ছাত্রজীবন থেকেই সক্রিয় ছিলেন তিনি।

স্বাধীনতার পর লক্ষ্মীপুরে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে ‘কাকলি’ ও ‘ত্রিধারা’ নামে দুটি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। অধ্যাপক ননী গোপাল ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ত্রিধারা শিক্ষা নিকেতন’। লক্ষ্মীপুরে এটি দীর্ঘদিন একটি ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল।

নাট্যচর্চা, আবৃত্তি, স্মরণিকা প্রকাশ, একুশে ফেব্রুয়ারি পালন, বাংলা নববর্ষ উদযাপন এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মজয়ন্তীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল।

শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবনের শুরু

ইসমাইল জবিউল্লাহ পেশাগত জীবন শুরু করেন শিক্ষকতা দিয়ে। ১৯৭৩ সালে চৌমুহনী কলেজের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। একই সময়ে চন্দ্রগঞ্জ কফিলউদ্দিন কলেজে খণ্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত নোয়াখালী সরকারি কলেজে ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে প্রবেশের প্রস্তুতি নেন। ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের প্রথম নিয়মিত সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। ১৯৭৭ সালে সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগ দিয়ে চট্টগ্রামে প্রশাসনিক কর্মজীবন শুরু করেন।

প্রশাসন ও বিচার বিভাগে দীর্ঘ কর্মজীবন

দীর্ঘ কর্মজীবনে ইসমাইল জবিউল্লাহ প্রশাসনের পাশাপাশি বিচারিক দায়িত্বও পালন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ম্যাজিস্ট্রেট এবং সামরিক আইন আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তী সময়ে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এসব দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে সরকারের নীতি বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি।

১৯৮৬ সালে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০২ সালে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেন। উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের এসব দায়িত্ব পালনের সময় জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের জন্য তিনি পরিচিতি লাভ করেন।

মন্ত্রণালয় পর্যায়েও তাঁর দায়িত্বের পরিধি ছিল বিস্তৃত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব, নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কাজ করেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় পরিচালিত ‘প্রমোট’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। নারী শিক্ষার প্রসারে ওই প্রকল্পের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

সচিব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব

সরকারের শীর্ষ প্রশাসনিক পর্যায়েও দায়িত্ব পালন করেছেন ইসমাইল জবিউল্লাহ। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নীতি প্রণয়ন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, বৈদেশিক সহায়তা ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তিনি। দীর্ঘ সরকারি চাকরিজীবন শেষে ২০০৮ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব

সরকারি চাকরির বিভিন্ন পর্যায়ে এবং পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন ইসমাইল জবিউল্লাহ।

১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ব্রুনাই ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে শ্রম কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণে তার ভূমিকার কথা সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচিত হয়। তার দায়িত্ব পালনকালকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিএনপির প্রতিনিধি দলের সদস্য ও নেতা হিসেবে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। সম্প্রতি চীন সফরেও বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন তিনি।

বর্তমানে বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজের (আইসিএপিপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও তার দীর্ঘ সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইমও) সদস্য হিসেবে ২০০৩ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। সুইডেনের মালমোতে অবস্থিত ওয়ার্ল্ড মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির গভর্নর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত জেদ্দায় ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইএসডিবি) নির্বাহী পরিচালক ছিলেন।

এ ছাড়া বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিকল্প গভর্নর হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। জাতিসংঘ, ওআইসি, কমনওয়েলথ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সভা ও কার্যক্রমে বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নেন। তার কর্মজীবনে বিশ্বের ৩৫টিরও বেশি দেশ সফরের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে

সরকারি প্রশাসনের বাইরে ব্যাংক, অবকাঠামো ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বেও দায়িত্ব পালন করেছেন ইসমাইল জবিউল্লাহ।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (আইডিসিওএল) এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি লিমিটেডের (আইআইএফসিএল) চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া আইসিডিডিআরবির বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর এবং আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবনের মোতাওয়াল্লী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন।

শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। ২০২১-২০২২ সময়ে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ছিলেন। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং তেজগাঁও উইমেনস কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ অ্যালামনাই সোসাইটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

অবসরের পর নীতি ও গবেষণায় সক্রিয়

সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরও ইসমাইল জবিউল্লাহ নীতি প্রণয়ন, গবেষণা ও রাষ্ট্র সংস্কার বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন।

২০১৬ সাল থেকে তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক এবং দলের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০১৬ সালের মার্চ থেকে বিএনপির গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টারের (বিএনআরসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও গবেষণা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে সাবেক আমলাদের সংগঠন পলিসি ম্যানেজমেন্ট এন্ড রিসার্চ সোসাইটির (পিএমআরসি) চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

রাষ্ট্র সংস্কার ও বিএনপির ভিশন প্রণয়নে ভূমিকা

বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কার ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিকল্পনা প্রণয়নেও ইসমাইল জবিউল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ঘোষিত ভিশন-২০৩০, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ২৭ দফা এবং পরবর্তী সময়ে যুগপৎ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তার সম্পৃক্ততা ছিল।

এ ছাড়া ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কারবিষয়ক ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমেও বিএনপির অন্যতম প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন। জুলাই সনদ প্রণয়ন প্রক্রিয়া, প্রশাসনিক সংস্কার ও নির্বাচন কমিশন সংস্কারসংক্রান্ত দলীয় কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন।

বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন কমিশনে বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

রাজনৈতিক হয়রানির মামলার মুখোমুখি

রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সময়ে মামলারও মুখোমুখি হতে হয়েছে ইসমাইল জবিউল্লাহকে। এক-এগারোর সময় তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছিল বলে তার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। দীর্ঘ সময় পর ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে হাইকোর্টের মাধ্যমে ওই মামলা থেকে তিনি অব্যাহতি পান।

এ ছাড়া ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে তার বিরুদ্ধে ছয়টি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক ও ‘গায়েবি’ মামলা করা হয়েছিল বলেও তাঁর ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন।

লক্ষ্মীপুরের মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দায়িত্বের পাশাপাশি নিজ এলাকা লক্ষ্মীপুরের মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। শিক্ষকতা জীবনে তার শিক্ষার্থীদের অনেকেই পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

সরকারি চাকরিতে থাকার সময়ও তিনি নিজ জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখেন। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে বৃহত্তর নোয়াখালী, বিশেষ করে লক্ষ্মীপুর অঞ্চলের সড়ক ও সেতু অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করেন বলে তার ঘনিষ্ঠজনরা জানান।

এলাকার শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও তার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এতিমখানা, মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়নসহ বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তিনি সহযোগিতা করেছেন।

তার সম্পর্কে এলাকাবাসীর একটি প্রচলিত ধারণা হলো, সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায়ও ন্যায়সংগত বিষয়ে কেউ তার কাছে গেলে তিনি যথাসাধ্য সহযোগিতা করার চেষ্টা করতেন। নিজ জেলা ও এলাকার শিক্ষিত ও যোগ্য ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সুযোগ তৈরিতেও তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন বলে স্থানীয়দের অনেকে মনে করেন।

স্থায়ী কমিটিতে নতুন দায়িত্ব

দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, বিচারিক দায়িত্ব, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড, আর্থিক ও অবকাঠামোগত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, গবেষণা এবং রাষ্ট্র সংস্কার কার্যক্রমে সম্পৃক্ততার পর এবার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত হলেন মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

সিভিল সার্ভিসে দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে সক্রিয় রাজনীতি ও নীতি প্রণয়নে তার সম্পৃক্ততা বিএনপির জন্যও একটি ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে প্রশাসন, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, নির্বাচন ব্যবস্থা ও রাষ্ট্র সংস্কার বিষয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দলটির নীতি নির্ধারণে কাজে লাগবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

একজন শিক্ষক থেকে প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট থেকে সচিব, কূটনৈতিক প্রতিনিধি থেকে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং পরবর্তী সময়ে গবেষক ও নীতি প্রণয়নকারী হিসেবে ইসমাইল জবিউল্লাহর কর্মজীবনে রয়েছে নানা মাত্রা। জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে তাঁর অন্তর্ভুক্তির মধ্য দিয়ে সেই অভিজ্ঞতা এবার সরাসরি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হলো।


কেকে/সাশ 


আরও সংবাদ   বিষয়:  সমাইল জবিউল্লাহ   সিভিল সার্ভিস     
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

রাজনীতি- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close