ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৯ উইকেটের হারের পর অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেছেন, ‘এই হারের জন্য কোনো অজুহাত নেই।’ একই সাথে আগামী সপ্তাহে ম্যাকেতে অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় টেস্টে দলে পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৬ আগস্ট) ম্যাচের চতুর্থ দিনে চা-বিরতির কিছুক্ষণ আগে বাংলাদেশ ঐতিহাসিক ৯ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে।
পুরো ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে বাংলাদেশ। টস জিতে কামিন্সের আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্তও এখন প্রশ্নের মুখে। কারণ, প্রথম দিনের শুরুতে বোলারদের জন্য কিছুটা সহায়ক থাকা উইকেট পরে ব্যাটিংয়ের জন্য সহজ হয়ে যায়। অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হওয়ার পর বাংলাদেশ করে ৪২৬ রান।
ম্যাচ শেষে প্যাট কামিন্স বলেন, ‘আমার মনে হয় আমাদের প্রস্তুতি একেবারে ঠিকঠাক ছিল। প্রস্তুতি দারুণ ছিল। তাই হ্যাঁ, কোনো অজুহাত নেই। বাংলাদেশ খুব ভালো খেলেছে। প্রথম দিনের উইকেটে শুরুতে কিছুটা সহায়তা ছিল। কিন্তু আমাদের আরও বেশি সময় ব্যাট করতে হতো। এরপর বল হাতে আমরা তাদের চাপে ফেলতেও পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সব দিক থেকেই তারা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। তারা খুব ধৈর্যশীল ও নিয়ন্ত্রিত ছিল। একবার আমরা পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফিরে আসা খুব কঠিন হয়ে যায়।’
অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার জ্যাক ওয়েদারাল্ড প্রথম ইনিংসে ২৩ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে শূন্য রান করেন। অন্যদিকে মার্নাস লাবুশেন দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো শুরু পেয়েও তা বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেননি। ফলে দুইজনের জায়গাই এখন প্রশ্নের মুখে।
দুই টেস্টের জন্য একই স্কোয়াড ঘোষণা করেছিল অস্ট্রেলিয়া। সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে প্যাট কামিন্স বলেন, ‘ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।’
তবে এমন হারের পর দল নিয়ে আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক বলেও স্বীকার করেন তিনি।
তার ভাষায়, এ ধরনের প্রতিটি ম্যাচের পরই আমরা দলের ভারসাম্য, খেলোয়াড়দের ম্যাচ-আপ এবং পরের ম্যাচের জন্য দল কেমন হবে এসব নিয়ে ভাবি। কিন্তু ম্যাচটা মাত্র শেষ হলো। তাই আমাদের কিছুটা সময় নিয়ে ভাবতে হবে। আমরা ঘুরে দাঁড়াতে বেশ ভালোভাবেই জানি। ব্যাটারসহ দলের প্রতিটি বিভাগই নিশ্চয়ই এই ম্যাচ নিয়ে ভালোভাবে আলোচনা করবে এবং কোথায় উন্নতি করা যায়, তা দেখবে।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য ম্যাচের দুইটি বড় ইতিবাচক দিক ছিল জশ হ্যাজেলউড ও ক্যামেরন গ্রিনের পারফরম্যান্স। প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট নিয়ে জশ হ্যাজেলউড টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন। অন্যদিকে গ্রিন ঘরের মাটিতে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন। সিরিজের আগে তিনিও ছিলেন চাপের মধ্যে থাকা ব্যাটারদের একজন।
জশ হ্যাজেলউডের প্রশংসা করে প্যাট কামিন্স বলেন, ‘গত কয়েক বছরে চোটের কারণে জশের সময়টা ভালো যায়নি। কিন্তু সে সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমীদের একজন। এমন একটি উইকেটে, যেখানে সিমারদের জন্য খুব বেশি কিছু ছিল না, সেখানেও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েছে। সে অসাধারণ ছিল।’
ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ইনিংসে গ্রিনির ব্যাটিংয়ের গতি দেখিয়েছে সে কতটা ভালো খেলোয়াড়। শুধু আমাদের কয়েকজনকে তার সঙ্গে আরও কিছুক্ষণ থাকতে হতো। তবে সে অসাধারণ ছিল।’
চতুর্থ দিনের খেলা শুরুর আগে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিংও মনে করেছিলেন, দ্বিতীয় টেস্টে দলে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
চ্যানেল সেভেনে পন্টিং বলেন, ‘আমার মনে হয় পরিবর্তন আনাটা অনিবার্য। গত গ্রীষ্মের শেষেই আমি বলেছিলাম, এই দলকে নতুন করে গড়ে তোলার এটাই আদর্শ সময়। কয়েকজন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স দেখে সেই প্রয়োজনীয়তা ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এমন কেউ নই যে সহজে পরিবর্তন চাই। অধিনায়ক বা খেলোয়াড় হিসেবে আমি সবসময় একই দলকে ধরে রাখতে চেয়েছি। কাউকে বাদ দেওয়ার কথা বলার আগে পরিস্থিতি খারাপ পর্যায়ে যাওয়া দরকার। কিন্তু এখানে আসার আগেই যথেষ্ট প্রমাণ ছিল যে, দলকে নতুন করে গড়তে শুরু করলে অস্ট্রেলিয়ার খুব বেশি কিছু হারানোর নেই, হয়তো নতুন একজন ওপেনার আনা যেতে পারে, কিংবা তিন নম্বরে নতুন কাউকে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।’
কেকে/এমএ