রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬,
১ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: ছয় মাস পূর্তিতে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা      কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ বিমানের উড়োজাহাজে কারিগরি ত্রুটি, আটকা ১২৭ যাত্রী      বংশালে হেলমেটের গোডাউনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সাত ইউনিট      ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৮০৫      ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে নোটিশ      ফের মেসির পেনাল্টি মিস, হারল মায়ামি      সব দিক দিয়েই অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে বাংলাদেশ ভালো খেলেছে : কামিন্স      
ধর্ম
ঈদে মিলাদুন্নবী : ইতিহাস, তাৎপর্য ও করণীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:২৫ পিএম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য হলো—সুন্দর, আনন্দদায়ক ও কল্যাণকর কোনো বিষয় পেলে সে আনন্দিত হয়; আর দুঃখ, অকল্যাণ ও অন্যায়ের পরিস্থিতিতে ব্যথিত হয়। ইতিহাসে দেখা যায়, মানুষ যখন অন্যায়, অসত্য ও জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তখন মুক্তির পথ খুঁজেছে এবং একজন আদর্শ নেতা ও পথপ্রদর্শকের নেতৃত্বে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করেছে।

মুসলিমদের কাছে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত ও রহমত হিসেবে বিবেচিত। তাঁর জন্ম ও জীবনাদর্শ স্মরণকে কেন্দ্র করে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের প্রচলন রয়েছে।

ঈদ ও মিলাদ শব্দের অর্থ

আরবি ‘ঈদ’ শব্দের অর্থ এমন দিন, যা কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বা মর্যাদাবান ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে আনন্দ ও স্মরণে ফিরে আসে। অন্যদিকে ‘মিলাদ’ শব্দের অর্থ জন্ম বা জন্মকাল। প্রচলিত অর্থে মিলাদুন্নবী বলতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম, জীবন, চরিত্র, শিক্ষা ও আদর্শ স্মরণ এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশকে বোঝানো হয়।

ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ ও সালাম, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, নাতে রাসুল, দোয়া-মোনাজাতসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কোরআনে নেয়ামতের জন্য আনন্দের শিক্ষা

পবিত্র কোরআনে আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতের জন্য আনন্দ প্রকাশের কথা বলা হয়েছে। সূরা ইউনুসের ৫৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ায় আনন্দিত হতে।

মুসলিম আলেমদের একাংশ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতের মধ্যে ইসলাম, কোরআন এবং মহানবী (সা.)-এর আগমনকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তবে এ আয়াতের ব্যাখ্যা ও ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের শরয়ি অবস্থান নিয়ে ইসলামী চিন্তাবিদদের মধ্যে মতভেদও রয়েছে।

মহানবী (সা.)-এর আগমন ও মানবতার পরিবর্তন

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এমন এক সময়ে পৃথিবীতে আগমন করেন, যখন আরব সমাজে নানা ধরনের সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় বিদ্যমান ছিল। শিরক, গোত্রীয় সংঘাত, সুদ, মদ, জুয়া, নারী ও দুর্বল শ্রেণির প্রতি অবিচারসহ বিভিন্ন অনাচার সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল।

মহানবী (সা.) তাঁর নবুয়তি জীবনে তাওহিদ, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, সততা, আমানতদারি ও পারস্পরিক সহমর্মিতার শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর জীবন ও কর্মের মাধ্যমে আরব সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন আসে এবং ইসলামের আদর্শ দ্রুত বিস্তৃত হয়।

কোরআনে মহানবী (সা.) সম্পর্কে বলা হয়েছে, তাঁকে ‘বিশ্বজগতের জন্য রহমত’ হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে (সূরা আল-আম্বিয়া: ১০৭)।

মহানবী (সা.)-এর চরিত্রই প্রধান শিক্ষা

মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ক্ষমা, দয়া, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত। নবুয়তের আগেই মক্কার মানুষ তাঁকে ‘আল-আমিন’ বা বিশ্বস্ত হিসেবে জানত।

তাই ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে তাঁর চরিত্র ও আদর্শ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করা। শুধু আলোচনা, মাহফিল বা আনন্দ-উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের অঙ্গীকারই হওয়া উচিত এ উপলক্ষের মূল উদ্দেশ্য।

ঈদে মিলাদুন্নবীর ঐতিহাসিক প্রচলন

ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের ঐতিহাসিক প্রচলন নিয়ে ইসলামী ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। কিছু ঐতিহাসিক সূত্রে বলা হয়, পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে মুসলিম সমাজে আনুষ্ঠানিকভাবে মিলাদ আয়োজনের বিস্তার ঘটে। ইরাকের ইরবিল অঞ্চলের শাসক মুজাফফরুদ্দিন কুকবুরি এ ধরনের বড় আয়োজনের জন্য ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখিত।

মিলাদুন্নবী পালনের ইতিহাস, সময়কাল ও শরয়ি বৈধতা নিয়ে বিভিন্ন মাজহাব ও ইসলামী চিন্তাধারার আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে বিষয়টি আলোচনার ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য

মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা মুসলমানদের ঈমানি অনুভূতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে সেই ভালোবাসা শুধু আবেগ বা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁর আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে প্রকাশ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

যে ব্যক্তি অন্যায়, দুর্নীতি, প্রতারণা, জুলুম ও মানুষের অধিকার হরণ থেকে নিজেকে বিরত রাখে এবং মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা অনুসারে জীবন পরিচালনার চেষ্টা করে, তার জীবনেই নবীপ্রেমের বাস্তব প্রতিফলন ঘটে।

উৎসবের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আদর্শ বাস্তবায়ন

ঈদে মিলাদুন্নবীর মূল শিক্ষা হওয়া উচিত মহানবী (সা.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া। সমাজে অন্যায়, দুর্নীতি, ঘুষ, প্রতারণা, জুলুম ও বৈষম্য কমাতে তাঁর ন্যায়, সততা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করা প্রয়োজন।

নবীপ্রেমের সবচেয়ে সুন্দর প্রকাশ হতে পারে—নিজের চরিত্র সংশোধন, মানুষের অধিকার রক্ষা, অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা।

মহানবী (সা.)-এর জীবনকে শুধু একটি নির্দিষ্ট দিনের আলোচনায় সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর তাঁর আদর্শ অনুসরণ করাই হওয়া উচিত প্রত্যেক মুসলমানের লক্ষ্য।

ঈদে মিলাদুন্নবী হোক নবীপ্রেম, আত্মশুদ্ধি, মানবিকতা ও মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের নতুন অঙ্গীকারের উপলক্ষ।

কেকে/ এমএস


আরও সংবাদ   বিষয়:  ঈদে মিলাদুন্নবী   ইতিহাস  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

ধর্ম- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close