মাত্র ২০ টাকায় দীর্ঘদিন রোগী দেখে মানুষের সেবা করে আসা ‘২০ টাকার ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত ডা. আলী আকবর আর নেই। রোববার (১৬ আগস্ট) ভোর ৬টার দিকে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যুতে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
১৯৮২ সালে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন ডা. আলী আকবর। চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার নানা সুযোগ থাকলেও তিনি নিজ এলাকার মানুষের পাশে থাকার পথ বেছে নেন। দশমিনা থানা সড়কের সামনে নিজের চেম্বারে দীর্ঘদিন মাত্র ২০ টাকার বিনিময়ে রোগীদের চিকিৎসা দিয়েছেন। আর্থিকভাবে অসচ্ছল অনেক রোগীকে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার নজিরও রয়েছে তার।
ডা. আলী আকবর শুধু চিকিৎসাসেবার মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। শিক্ষা ও সমাজসেবায়ও রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তিনি প্রখ্যাত কৃষক নেতা ও বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি প্রয়াত আব্দুল সাত্তার খানের জামাতা এবং দশমিনা উপজেলা পরিষদের চারবারের নির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ডা. শামসুন্নাহার খান ডলির স্বামী ছিলেন।
ডা. আলী আকবর ও তার স্ত্রী ডা. শামসুন্নাহার খান ডলি মিলে এলাকায় একাধিক শিক্ষা ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। এর মধ্যে ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজ এবং আলীপুরা ডাক্তারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার নাম উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয়রা জানান, মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ ও সহজ-সরল জীবনযাপনের কারণে ডা. আলী আকবর সবার কাছে ছিলেন অত্যন্ত আপনজন। এমবিবিএস ডিগ্রিধারী হয়েও তার মধ্যে কোনো অহংকার ছিল না। মৃদুভাষী ও হাস্যোজ্জ্বল এই চিকিৎসক অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে না পারা মানুষের পাশে দাঁড়াতেন।
রোববার তার দুটি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমটি দশমিনা মডেল মসজিদে এবং দ্বিতীয়টি মধ্য আলীপুরা ডাক্তারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। এতে স্থানীয়দের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি এলাকার উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, চিকিৎসা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ডা. আলী আকবর চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তার ও সমাজকল্যাণে কাজ করে সেই দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার মৃত্যুতে স্থানীয় চিকিৎসা ও সমাজসেবা অঙ্গনে অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। বিশিষ্ট এই চিকিৎসকের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষ।
কেকে/সাশ