‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’— প্রতিপাদ্যে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের আয়োজনে বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে শেষ হয়। র্যালি শেষে সেখানে অনুষদের শিক্ষার্থীরা জনসচেতনতামূলক মৎস্য নাটিকা মঞ্চস্থ করে। অনুষ্ঠানসমূহে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. নওশের ওয়ান এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. মো. মাসুদুল হাসান খান।
এ ছাড়াও মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর মো. ফরিদুল্লাহ, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রফেসর ড. আবুল কালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি, পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তায় মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস মাছ, যার ৮০ শতাংশ মাছের মাধ্যমে পূরণ করতে সক্ষম হচ্ছি। একই সঙ্গে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই মৎস্য উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ, মৎস্য সম্পদের টেকসই উন্নয়ন ও সংরক্ষণে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে হাবিপ্রবির গ্র্যাজুয়েটদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, রোগ ব্যবস্থাপনা, উন্নত জাত উদ্ভাবন, খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং জলজ পরিবেশ সংরক্ষণে আমাদের শিক্ষক-গবেষকরা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণালব্ধ জ্ঞান যাতে মৎস্যচাষি ও উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে যায়, সে বিষয়েও আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।’
উপাচার্য আরও বলেন, ‘আমি আশা করি জাতীয় মৎস্য পক্ষের এ আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠ পর্যায়ে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার মাধ্যমে মৎস্যসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’
কেকে/এআই