শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১১ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● বনানীর বহুতল ভবনে আগুন      ● টিকাদানকেন্দ্র ভাঙচুরে এমপি ও পুলিশ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা : ডিএমপি      ● বাংলাদেশিদের জন্য হঠাৎ মার্কিন দূতাবাসের জরুরি সতর্কবার্তা      ● গুলিস্তানে জাসদ কার্যালয়ে গোপন বৈঠক, আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক অর্ধশতাধিক      ● জনপ্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে সরকার কঠোর হতে বাধ্য হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      ● প্রথম দফায় বাদ পড়া শিশুদের জন্য দ্বিতীয় দফায় হাম টিকাদান শুরু      ● আওয়ামী লীগের দোসরদের আইনের আওতায় আনলে পুরস্কার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      
শিক্ষা
৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু হচ্ছে : ইউজিসি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৫ পিএম
বক্তব্য দিচ্ছেন আবদুল্লাহ-আল-মামুন

বক্তব্য দিচ্ছেন আবদুল্লাহ-আল-মামুন

সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালু করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অনুষ্ঠানে আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব ক্রমেই আন্তঃসংযুক্ত হয়ে উঠছে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত একটি ভাষার জ্ঞান শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও পেশাগত সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক যোগাযোগে সক্ষম করে তুলতে পারে।’

‘২০২৬ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে ম্যান্ডারিন (চীনা), জাপানিজ, জার্মান, কোরিয়ান ও আরবি ভাষাসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাগত ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তৃতীয় ভাষা কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের সব বিভাগীয় অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করে এসব কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটসহ এ ধরনের প্রতিষ্ঠান এ উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।’

আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, ‘তৃতীয় ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিদেশি ও স্থানীয় ভাষা বিশেষজ্ঞ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষণ উপকরণের প্রয়োজন হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর সঙ্গে ইউজিসি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। বিশেষ করে ম্যান্ডারিনকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ভাষা হিসেবে বিবেচনা করায় চীনের দূতাবাসের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ‘

ভাষা শিক্ষার সঙ্গে উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ম্যান্ডারিনসহ তৃতীয় ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার্থী বিনিময়, বৃত্তি, যৌথ একাডেমিক কর্মসূচি, গবেষণা ফেলোশিপ, সামার স্কুল, একাডেমিক সম্মেলন এবং শিক্ষক-গবেষক বিনিময়ের সুযোগ পেতে পারেন।’

বাংলাদেশকে উচ্চশিক্ষার আঞ্চলিক হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে ইউজিসির সদস্য বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌথ ডিগ্রি ও দ্বৈত ডিগ্রির সুযোগ তৈরির বিষয়টি ইউজিসি কাজ করছে। চীনের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এ ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিকীকরণে ভূমিকা রাখতে পারে।’

কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাণিজ্য, উৎপাদন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, লজিস্টিকস, প্রকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত। নিজ নিজ বিষয়ে জ্ঞানের পাশাপাশি ভাষা ও আন্তঃসাংস্কৃতিক দক্ষতা থাকা স্নাতকদের আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই তৃতীয় ভাষা শিক্ষাকে কর্মসংস্থানযোগ্যতা বৃদ্ধির বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।’

গবেষণা সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সহযোগিতা ভাষা ও সংস্কৃতির গণ্ডি ছাড়িয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদীয়মান প্রযুক্তি, কৃষি, জলবায়ু, প্রকৌশল, জীবপ্রযুক্তি, জনস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হতে পারে। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট এসব একাডেমিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে।’

ব্রেইন ড্রেইন থেকে ব্রেইন সার্কুলেশনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, ‘বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, গবেষক ও পেশাজীবীদের দেশের শিক্ষা ও গবেষণায় যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করতে হবে। ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি, সামার স্কুল, যৌথ তত্ত্বাবধান, গবেষণা সহযোগিতা ও একাডেমিক বিনিময়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক জ্ঞান নেটওয়ার্ককে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব।’

বাংলাদেশ-চীন জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভাষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একটি ভাষা অন্য একটি সমাজকে বোঝার প্রবেশদ্বার। কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা চীনা ভাষা, ইতিহাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারবেন। একই সঙ্গে চীনা শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও সমাজ সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হবে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের ভূমিকার বিষয়ে ইউজিসি সদস্য বলেন, ‘এটি শুধু ভাষা শিক্ষার কেন্দ্র না হয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা, বৃত্তি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের প্ল্যাটফর্মে পরিণত হতে পারে।’

বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য চীনা ভাষা শেখার সুযোগ সহজলভ্য করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

‘কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ভাষার সঙ্গে শিক্ষা, শিক্ষার সঙ্গে গবেষণা, গবেষণার সঙ্গে উদ্ভাবন এবং দক্ষতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগকে যুক্ত করার একটি নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিপিসি ইউনান প্রাদেশিক কমিটির স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ঝাও জুনমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত  ইয়াও ওয়েন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি কমিটির সম্পাদক রুয়ান চাওছি, বিকেএসপির মহাপরিচালক 
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ।

কেকে/এমএ


আরও সংবাদ   বিষয়:  তৃতীয় ভাষা শিক্ষা   ইউজিসি   ৫০ বিশ্ববিদ্যালয়   ম্যান্ডারিন ভাষা   উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

শিক্ষা- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close