গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের মান্দুরা গ্রামে দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি ও বসতঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং বাঁশের বেড়া দিয়ে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী রহমত উল্লাহ শামীম।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ১৫ মে মান্দুরা গ্রামে হেবা দলিলকৃত ভোগদখলীয় জমি ও বসতঘরে শাকিবুর রহমান মিশু, জাকিয়া আফরোজ জেরিন, হোসনে আরা স্বপ্না, শরিফুল ইসলাম, ডেইজি বেগম, মাহিদুলসহ আরও ১৫-২০ জন দলবদ্ধভাবে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বসতঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে জমি দখলে নিয়ে বাঁশের বেড়া দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রহমত উল্লাহ শামীম বলেন, “তার নামে ১ একর ২৫ শতাংশ জমি খারিজ করা হয়েছে এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা হয়। এর মধ্যে ৩৬ শতাংশ জমি প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক দখলে নিয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন বলেও জানান।”
ঘটনার পর তিনি সাঘাটা থানায় অভিযোগ করেন। পরে থানার এসআই উজ্জ্বল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন রহমত উল্লাহ।
জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় তিনি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০৭ ও ১৭ ধারায় মামলা করেছেন বলেও জানান। তার দাবি, গত ১৭ আগস্ট প্রতিপক্ষরা শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার মুচলেকা দিয়ে আদালত থেকে বের হন। তবে মুচলেকা দেওয়ার পরও তারা ওই জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
রহমত উল্লাহ শামীমের আরও অভিযোগ, তিনি জমিটি অন্য কারও কাছে বিক্রি করতে গেলে প্রতিপক্ষ বাধা সৃষ্টি করেন। জমি বিক্রি ঠেকাতেই তারা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে দাবি তাঁর।
এ ছাড়া বসতঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার পর থেকে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রহমত উল্লাহ শামীম দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। হঠাৎ একটি পক্ষ জমিটির একটি অংশ দখলে নিয়েছে বলে জানান তাঁরা।
রহমত উল্লাহ শামীমের পিতা মৃত নুরুল ইসলাম। তাদের স্থায়ী বাড়ি বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার বড় বালুয়া গ্রামে। বাড়ি অন্য জেলায় হওয়ায় প্রতিপক্ষ তার ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, তার ভোগদখলীয় জমি ও বসতঘর রক্ষা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রহমত উল্লাহ শামীম।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
কেকে/সাশ