বান্দরবানে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) বিষয়ক যৌথ পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুর্গম এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে করণীয় নির্ধারণে এ সভার আয়োজন করা হয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে বান্দরবানের গ্রাম উন্নয়ন সংগঠন (গ্রাউস) কার্যালয়ের সভাকক্ষে সংগঠনটির আয়োজনে এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী তুহিন বিশ্বাস, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের বান্দরবান কার্যালয়ের সিনিয়র ম্যানেজার আশীষ কুমার হালদার, গ্রাউসের উপনির্বাহী পরিচালক চিন্ময় মুরুং, প্রোগ্রাম ম্যানেজার টুলু মারমা, ওয়াশ ইন এফসি প্রজেক্ট পিবিআইয়ের ওয়াশ অফিসার ছাগ্যহ্লা চাক, প্রকল্প প্রকৌশলী ইমন আল মাহমুদসহ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, এনজিওকর্মী, কারবারি, পাড়া ওয়াশ কমিটির সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
সভায় শুরুতে প্রকল্পের বিভিন্ন দিক ও কার্যক্রম তুলে ধরেন ওয়াশ ইন এফসি প্রজেক্ট পিবিআইয়ের ওয়াশ অফিসার ছাগ্যহ্লা চাক। তিনি বলেন, “এলাকায় ওয়াশ সেবার বিদ্যমান ঘাটতি চিহ্নিত করা, এর কারণ বিশ্লেষণ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন পরিষদ, কমিউনিটি ও অন্যান্য অংশীজনের সমন্বয়ে এসব ঘাটতি পূরণে বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণই সভার মূল উদ্দেশ্য।”
তিনি আরও বলেন, “অংশীজনদের সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, “বান্দরবানের দুর্গম ও বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অনেক এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। তবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও সংস্থার সহযোগিতায় দুর্গম এলাকাগুলোতেও ধীরে ধীরে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হচ্ছে।”
তিনি বলেন, “গ্রাউসের ওয়াশ ইন এফসি প্রজেক্ট পিবিআই দুর্গম পাড়া ও এলাকায় পানি ও স্যানিটেশন নিয়ে কাজ করছে। একইভাবে অন্যান্য এনজিও ও উন্নয়ন সংস্থা এগিয়ে এলে বান্দরবানে ওয়াশ ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন সম্ভব হবে।”
অনুপম দে আরও বলেন, “বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকায় পানির সংকট রয়েছে এবং গ্রীষ্মকালে এ সংকট আরও তীব্র হয়। এ কারণে পানির উৎস ও জলাধার সংরক্ষণ, উপযুক্ত স্থানে নলকূপ স্থাপন এবং পানির উৎস রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহারে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।”
কেকে/সাশ