সূর্য ডুবলেই অনিরাপদ হয়ে ওঠে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ডিগ্রি শাখার ক্যাম্পাস। সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাসে অস্ত্রধারী ও মাদকসেবীদের আড্ডা, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দিনের বেলায় ক্যাম্পাসের পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলেও সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে বহিরাগতদের অবাধ চলাচল ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
নিরাপত্তাকর্মী এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে অস্ত্রধারী ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
গত শনিবার (২২ আগস্ট) কলেজ ক্যাম্পাসে কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের এক শিক্ষার্থী হামলার শিকার হয়েছেন। কলেজের নবাব ফয়জুন্নেসা হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নজরুল হল ও ফয়জুন্নেসা হলের শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
হামলার শিকার ওই শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সন্ধ্যায় কর্মস্থল থেকে কলেজের ভেতর দিয়ে নজরুল হলে ফিরছিলেন। ফয়জুন্নেসা হলের কোনায় ৮-১০ জনের কিশোর গ্যাংয়ের গ্রুপ সড়কে বসে চাকু ধার দিচ্ছিল। ফেরার পথে তাদের দেখে ফেলেন ওই শিক্ষার্থী। পরে তাকে ডেকে নেন কিশোর গ্যাংয়ের দল।
এ সময় তারা শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞেস করে, সে কোথায় থাকে? উত্তরে শিক্ষার্থী বলেন নজরুল হলে। পরে কিশোরদের মধ্যে একজন বলেন, ভিক্টোরিয়া কলেজ আর নজরুল হল আমাদের। উত্তরে ওই শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের মানে বুঝিনি। একথা বলার সঙ্গে বুঝোসনি, ভিক্টোরিয়া কলেজ আমাদের— বলেই তার ওপর হামলা করেন কিশোরদের দল। পরে কোন মতে বেরিয়ে এসে দৌঁড়ে নজরুল হলে যান তিনি। হলের শিক্ষার্থীরা এসে কিশোরদের একজনকে ধরে হলে নিয়ে যান। পরে স্থানীয়দের আশ্বাসে তাকে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনার কয়েকমাস আগে ছিনতাইয়ের শিকার হন ক্যাম্পাস এলাকার এক স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি ডায়াবেটিক সমস্যা কারণে প্রতি রাতে ক্যাম্পাসে হাঁটাচলা করেন। ভুক্তভোগী ওই স্থানীয় বাসিন্দার বলেন, ‘আমার সঙ্গে অর্থনীতি ভবনের কাছে এ ঘটনা হয়। ফোন রিসিভ করার জন্য পকেট থেকে ফোন বের করি পরে কিছু ছেলেরা এসে আমাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে আমার ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। কলেজে পর্যন্ত আলো থাকলেও নেই নিরাপত্তা। কিছু স্থান একেবারে অন্ধকার। এ সুযোগ কাজে লাগাছে বখাটেরা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।’
এ দুই ঘটনার সূত্র ধরে রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, পরিক্ষা ভবন পেছনে ও লাইব্রেরি ভবনের সামনে বসেছে মাদকের আসর। জিয়া মিলনায়তন, বিজ্ঞান ভবন-২ ও ফয়জুন্নেসা হলের পুরাতন ভবনের সামনে আলো নেই। এসব স্থানে বসেছে কিশোরগ্যাং আড্ডা। এ ছাড়াও আরো কয়েকটি স্থানে কিশোরগ্যাং আড্ডা দেখা গেছে।
ফয়জুন্নেসা হলের একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, রাতদিন হলের রাস্তায় বহিরাগতরা আড্ডা দেয়। বিশেষ করে রাতে অনেকেই ধূমপান করে। যে কারণে এ হলের শিক্ষার্থীরা হলে আসা-যাওয়ার সময় আতঙ্কে থাকেন।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল বাসার ভূঞা বলেন, ‘ছায়াবিতান অশোকতলার পাশে আমাদের কলেজে বাউন্ডারি নেই। যে কারনে বহিরাগতরা বড় একটি সুযোগ পেয়ে গেছে। বাউন্ডারি হয়ে গেলে এ মাত্রা কমবে। এ ছাড়াও সম্প্রতি কলেজের কয়েকটি ঘটনা নিয়ে আমরা পুলিশকে অবগত করেছি। পুলিশ বলেছেন তারা আরো টহল বাড়াবে এবং আমরা শিক্ষকরা আগামী কয়েকদিন কলেজ ক্যাম্পাসে নিয়মিত পরিদর্শনে যাবো।’
কেকে/এআই