অসুস্থ ইমরান খানের পাশে পাকিস্তানের বর্তমান ক্রিকেটাররা প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছেন না-এ জন্য তাদের দোষ দিচ্ছেন না ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার কপিল দেব। তার মতে, ওই ক্রিকেটারদের তো তাদের দেশে থাকতে হবে!
১৯৯২ ক্রিকেট বিশ্বকাপজয়ী পাকিস্তানের অধিনায়ক ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে রোববার (২৩ আগস্ট) দ্বিতীয়বারের মতো চিঠি দিয়েছেন সাবেক ২২ আন্তর্জাতিক অধিনায়ক।
কারাগারে থাকা ইমরানের একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি প্রায় পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে বলে খবর রয়েছে। একই সঙ্গে তার চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগও উঠেছে।
আজ সোমবার (২৪ আগস্ট) পিজিটিআইয়ের ‘রেস টু ডিপি ওয়ার্ল্ড ইন্ডিয়া চ্যাম্পিয়নশিপ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইমরানের বিষয়ে কথা বলেন কপিল দেব।
তিনি বলেন, ‘আমি আমার বন্ধুকে সমর্থন করতে চাই। আমরা তার বিপক্ষে খেলেছি এবং তার ক্রিকেটীয় দক্ষতার প্রশংসা করি। আমরা ওই দেশের আইন জানি না, সেটি ঠিক আছে। কিন্তু মানবিকতা এবং একজন বন্দির প্রয়োজনীয় মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা উচিত, তিনি যে-ই হোন না কেন। আর তিনি ছিলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার।’
ইমরানের জন্য সর্বোত্তম চিকিৎসার দাবি জানিয়ে কপিল আরও বলেন, ‘আমরা চাই তিনি যেন সর্বোত্তম চিকিৎসা পান। আমরা আর কিছু চাইছি না, কোনো জবাবও চাইছি না। আমরা শুধু অনুরোধ করছি।’
পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা কেন ইমরানের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলছেন না? এমন প্রশ্নের জবাবে তাদের দায়ী করতে রাজি নন কপিল। তার মতে, পাকিস্তানের বর্তমান ক্রিকেটারদের সেখানেই থাকতে হয়, তাই তাদের পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে।
কপিল দেব ছাড়াও সর্বশেষ চিঠিতে সই করেছেন ভারতের সুনীল গাভাস্কার ও দিলীপ ভেংসরকার। চিঠিটি উদ্যোগ নেন সাবেক অস্ট্রেলীয় অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল। এছাড়া স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন ক্লাইভ লয়েড, অর্জুনা রানাতুঙ্গা, অ্যালান বোর্ডার, ডেভিড গাওয়ার, স্টিভ ওয়াহ ও জন রাইট।
এর পূর্বে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তান সরকারের কাছে প্রথম চিঠি পাঠিয়েছিলেন ১৪ সাবেক অধিনায়ক। আদিয়ালা কারাগারে ইমরানের চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের পর সেই চিঠি দেওয়া হয়েছিল।
ইমরান ২০১৮-২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুর্নীতি ও অন্যান্য মামলায় দণ্ডিত হয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন।
সম্প্রতি চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য ইমরানকে একটি সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার এক বোনের উপস্থিতিতে পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাকে শারীরিকভাবে সুস্থ ঘোষণা করলেও ২২ সাবেক অধিনায়ক ওই মেডিকেল পরীক্ষার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ইমরানের হাসপাতালে অবস্থান ছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টার। আদালতের নির্দেশিত মেডিকেল বোর্ডের পরিবর্তে রাষ্ট্র নিযুক্ত একটি দলের মাধ্যমে তার পরীক্ষা করা হয় এবং তাকে ‘চিকিৎসাগতভাবে সুস্থ’ ঘোষণা করে আদিয়ালা কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। অথচ আদালতের নির্দেশিত মেডিকেল বোর্ড তখনও তার পরীক্ষা সম্পন্ন করতে পারেনি বলে ইমরানের পরিবার ও আইনজীবী দলের দাবি।’
ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাবেক তারকাদের এই উদ্বেগের মধ্যেই কপিল দেবের বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এনেছে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়টি।
কেকে/এমএ