দীর্ঘ এক শতাব্দীর জীবনে অভাব-অনটন ও নানা প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে চিরবিদায় নিলেন বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার পরিচিত মুখ শতবর্ষী মায়া রানী দাস। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মায়া রানী দাস বানারীপাড়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী বণিক বাড়ির বাসিন্দা ছিলেন। জীবনের বড় একটি সময় কেটেছে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে। কখনো পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষা করে, আবার কখনো শাকসবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন তিনি।
তবে শত কষ্টও তার সহজ-সরল ও হাসিমুখের স্বভাব বদলাতে পারেনি। বানারীপাড়া বাসস্ট্যান্ড ও বন্দর বাজার এলাকায় তাকে প্রায়ই দেখা যেত। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়লেও পরিচিত কাউকে দেখলেই হাসিমুখে কথা বলতেন। মানুষের প্রতি তার আন্তরিকতা ও ভালোবাসার কারণে স্থানীয়দের অনেকেই তাকে স্নেহ করে ‘কাকী’ বলে ডাকতেন।
স্থানীয়দের স্মৃতিচারণে জানা যায়, মায়া রানী দাসের সঙ্গে দেখা হলে অনেকেই তাকে সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করতেন। সামান্য কিছু টাকা হাতে পেলেও তার মুখে ফুটে উঠত তৃপ্তির হাসি। তার সরলতা, মায়ামাখা কথা ও হাসিমুখের স্মৃতি দীর্ঘদিন বানারীপাড়ার মানুষের মনে থেকে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তার মৃত্যুতে বানারীপাড়ার মানুষের কাছে পরিচিত একটি মানবিক মুখের অবসান হলো। এখন আর বাসস্ট্যান্ড কিংবা বন্দর বাজারে দেখা মিলবে না সেই পরিচিত মুখের। শোনা যাবে না তার কণ্ঠের সেই চেনা ডাক কিংবা দেখা যাবে না মায়াভরা হাসি।
জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে শেষ ঠিকানায় পাড়ি জমালেন মায়া রানী দাস। তার মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মায়া রানী দাসের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন দল-মত নির্বিশেষে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তার সরলতা, মানবিকতা ও হাসিমুখের স্মৃতি বানারীপাড়ার মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।
কেকে/সাশ