২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠাতে ভারত সরকারের কাছে প্রত্যর্পণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার নামে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির জন্যও আবেদন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকালে জাতীয় সংসদে জামালপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।
এ সময় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ অন্যান্য পলাতক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিদেশে পলাতক আসামিদের শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও দেশে ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কার্যক্রম জোরদার করেছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ৬ মে হত্যা মামলায় আসামি ও ইন্টারপোলের রেড নোটিশভুক্ত মো. আরিফ সরকারকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। আরেক হত্যা মামলার আসামি মোবারক মণ্ডলকে ২৭ মে কাতার থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ইন্টারপোলের রেড নোটিশে থাকা পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে আবুধাবিতে ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) থেকে তথ্য পাওয়া যায়। ওই তথ্য পাওয়ার পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ১৬ জুন কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রস্তাব পাঠায় বাংলাদেশ।’
‘বাংলাদেশের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় পারস্পরিকতার নীতির আওতায় সহযোগিতার নিশ্চয়তা চেয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র ৪ আগস্ট কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সহযোগিতার জন্য আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে একটি ল’ ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ বর্তমানে চলমান।’
মন্ত্রী বলেন, ‘মানব পাচার মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশে থাকা পলাতক মোল্লা নজরুল ইসলামকে সম্প্রতি লিবিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ১৬ মার্চ কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘অন্যান্য পলাতককে শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোল, বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর মাধ্যমে সরকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।’
কেকে/এমএ