হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে ৪৬৯ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৪৬৮ জনের বেশি। আকস্মিক বন্যায় নদীর পানির সঙ্গে কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত নেমে এসে স্থানীয় শহর, জনপদ ও উপত্যকাগুলো লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় হওয়া আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৪৬৯-এ পৌঁছেছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ১ হাজার ৪৬৮ জন ।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্যোগের একদিন পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তিব্বতের ভূমিধসকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং। সেখানে তিনি জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
নেপালের পুলিশ ও পর্যটন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটিতে নিখোঁজ ৯১০ জনের মধ্যে ৫০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক। দুই ডজনের বেশি দেশের পর্যটক ও নাগরিক নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন। এর মধ্যে ভারতের ১৭৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৫ জন রয়েছেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে ১০০ জন চীনা নাগরিক রয়েছেন।
অন্যদিকে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক।
দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজে বড় চ্যালেঞ্জ
দুর্যোগকবলিত এলাকায় পৌঁছানোই এখন উদ্ধারকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়ক ও সেতুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছে জীবিতদের উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরকারি ও বেসরকারি বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার উদ্ধারকাজে যুক্ত হয়েছে। এসব হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকা থেকে আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে পাঁজর ভেঙে যাওয়া ও ত্বক দগ্ধ হওয়ার মতো গুরুতর আঘাত রয়েছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকে পড়া হাজারো মানুষকে উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে। এলাকাটি তিব্বতের লাসা থেকে কাঠমান্ডু যাতায়াতকারী পর্যটক, ট্রেকার ও তীর্থযাত্রীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
বুধবারের ভিডিও ফুটেজে দ্রুতগতির পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে গিরং সীমান্তবর্তী এলাকায় কয়েক ডজন মানুষ ভেসে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। নেপালের দিকে নদীর নিম্নপ্রবাহে বহু ঘরবাড়ি, সড়ক ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।
নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পানিতে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের পানি বাড়ছে। যেকোনো সময় সেটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত জানিয়েছেন, প্রতিবেশী ভারত সরবরাহ করা তাঁবু, খাবার ও ওষুধ হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে পাঁচ হাজারের বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য অংশ নিয়েছেন।
বন্যার কারণে ভারতের নেপাল সীমান্তবর্তী বিহার, উত্তর প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড রাজ্য থেকেও হাজারো মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্যার পানি গান্ডাক নদীর অববাহিকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর একটি নুয়াকোটের বিদুরের পরিস্থিতি দেখতে সড়কপথে রওনা হয়েছেন বলে তাঁর কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে।
কেকে/ এমএস