সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬,
১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম: হামের উপসর্গে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১২৫৬      দিল্লিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে সেমিনার পুলিশের বাধায় বাতিল      মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে কোনো ঝুঁকি দেখছে না ঢাকা : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী      সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিন আহমেদকে তলব দুদকের      সাগর-রুনি হত্যায় একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের ‘কানেকশন মিলেছে’ : চিফ প্রসিকিউটর      ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে মাইলফলক হবে লালদিয়া টার্মিনাল : অর্থমন্ত্রী      হামের উপসর্গে আরও চার শিশুর প্রাণহানি      
দেশজুড়ে
চার খুনের আসামিদের ডোপ টেস্টে মাদকের অস্তিত্ব মেলেনি
আশিকুর রহমান ডিফেন্স, রংপুর
প্রকাশ: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৯ পিএম আপডেট: ৩১.০৮.২০২৬ ৬:০২ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অথচ পুলিশ আগে দাবি করেছিল, হত্যাকাণ্ডের আগে তারা ইয়াবা সেবন করেছিলেন। আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতেও দুজন হত্যার আগে ৮-৯টি ইয়াবা সেবনের কথা বলেছেন। ফলে ডোপ টেস্টের প্রতিবেদনে মাদক না পাওয়ার ঘটনায় তদন্ত নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। 

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন আসে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করা পরীক্ষায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দুজনের শরীরেই মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

রংপুর মহানগর ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘বেলা আড়াইটার দিকে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের প্রতিবেদন তারা হাতে পেয়েছেন। প্রতিবেদনে তাদের শরীরে মাদকের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।’ 

তবে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের আট দিন পর তাদের মূত্রের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতদিন পর মূত্র পরীক্ষায় মাদকের অস্তিত্ব নাও পাওয়া যেতে পারে। ঘটনার দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পরীক্ষা করা হলে মাদক শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।’ 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার (৩০ আগস্ট) রংপুর ডিবির সদস্যরা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন টেকনোলজিস্টকে সঙ্গে নিয়ে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যান। কারাগারের ভেতরেই সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা করা হয়। 

পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের কারাগারের বাইরে এনে ডোপ টেস্ট করা হলে তাদের ওপর হামলা কিংবা মব তৈরির আশঙ্কা ছিল। এ কারণে কারাগারের ভেতর থেকেই নমুনা সংগ্রহ করা হয়। 

পুলিশের আগের বক্তব্যের সঙ্গে কি সাংঘর্ষিক? 

চার হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ জানিয়েছিল, হত্যার আগে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস মাদক সেবন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতেও দুজন হত্যার আগে ৮-৯টি ইয়াবা সেবনের কথা বলেছেন বলে পুলিশ জানায়। 

কিন্তু ঘটনার আট দিন পর করা ডোপ টেস্টে মাদকের কোনো অস্তিত্ব না পাওয়ায় পুলিশের ওই বক্তব্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘তদন্ত তো চলছেই। আমরা বসে নেই। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

তিনি আরও জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডোপ টেস্টের জন্য মূত্র পরীক্ষা করা হয়। বর্তমানে সেখানে চুল বা রক্তের নমুনা পরীক্ষা করার সুযোগ নেই। 

গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ার নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পরে সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২৩ আগস্ট তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। বর্তমানে দুজনই রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  রংপুর   চার খুন   আসামি   ডোপ টেস্ট  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close