সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: বিশ্ববাজারে তেলের দামে ধস      জ্বালানিতে জ্বলবে জনগণ      নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী      লিটারে ২০ টাকা বাড়ল ডিজেল-পেট্রোল-অকটেনের দাম      সেপ্টেম্বরের ১৯ দিনে রেমিট্যান্স এলো ২৩ হাজার ৮৭ কোটি টাকা      ৩৫ জন সফর সঙ্গীসহ প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক যাচ্ছেন আগামীকাল      রামিসার মতো অপ্রতিম হত্যার বিচারও দ্রুত শেষ হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      
দেশজুড়ে
আজ রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস : কুশিয়ারায় ভেসেছিল লাশ
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৪ এএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

আজ ১ সেপ্টেম্বর জগন্নাথপুরের রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসরদের হাতে রানীগঞ্জ বাজারে সংঘটিত হয় বর্বর গণহত্যা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন দুই শতাধিক নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তাদের মরদেহ কুশিয়ারা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয় এবং পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় পুরো রানীগঞ্জ বাজার।

এটি জগন্নাথপুরের দ্বিতীয় গণহত্যা। এর আগের দিন, ৩১ আগস্ট উপজেলার শ্রীরামসি গ্রামে আরেকটি বর্বর গণহত্যা সংঘটিত হয়। পরপর দুই দিনের এসব নৃশংস হত্যাযজ্ঞের স্মৃতি আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন স্থানীয়রা।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১ সেপ্টেম্বর শান্তি কমিটি গঠনের কথা বলে স্থানীয় রাজাকাররা রানীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী, বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা মানুষ, নৌকার মাঝি, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের একটি বড় দোকানে জড়ো করে। সেখানে দুই শতাধিক মানুষকে একত্রিত করার পর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের রশি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়।

পরে তাদের কুশিয়ারা নদীর তীরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে পেছন দিক থেকে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। গুলিতে নিহতদের মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় রানীগঞ্জ বাজারে। মুহূর্তেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় ঐতিহ্যবাহী এই নৌবন্দর।

স্থানীয় ইতিহাস ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ওই হত্যাযজ্ঞে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ শহিদ হন। তবে দীর্ঘ সময় পরও মাত্র ৩৪ জন শহিদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের পরিচয় এখনো অজানা।

রানীগঞ্জের বাসিন্দাদের কাছে ১ সেপ্টেম্বর তাই শুধু একটি দিন নয়, এটি শোক ও বেদনার স্মৃতি বহনকারী একটি দিন। প্রতিবছর গণহত্যা দিবস উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।

তবে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও রানীগঞ্জ গণহত্যায় নিহতদের স্মরণে এখনো কোনো স্মৃতি পরিষদ গড়ে ওঠেনি। ফলে শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণ ও গণহত্যার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শহিদ গাজী ফাউন্ডেশন ও রানীগঞ্জ মডেল সোসাইটি নামের দুটি সামাজিক সংগঠন ২০০৩ ও ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে আসছে। এবারও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  রানীগঞ্জ গণহত্যা দিবস   বর্বর গণহত্যা  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close