বগুড়ায় চোর সন্দেহে শামিম হোসেন (৩৫) নামে যুবককে মারধর ও নির্যাতনের পর পায়ের রগ কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোরে সদর উপজেলার নিশিন্দারা ইউনিয়নের বারপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শামিম হোসেন সদর উপজেলার নামুজা ইউনিয়নের চৌমুহনী এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।
নিহতের স্বজনরা জানান, শামিম তার ভায়রার জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে বারপুর গ্রামে যান। রাতে তিনি ওই এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করেন। ভোররাত ৩টার দিকে গ্রামের রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করার সময় তাকে চোর সন্দেহে নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবিএম শাফিসহ কয়েকজন আটক করেন।
স্বজনদের অভিযোগ, আটকের পর শামিমকে মারধর ও নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তার পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে একটি পরিত্যক্ত স্থানে ফেলে রাখা হয়।
খবর পেয়ে গ্রাম পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন, ইউপি সদস্য এবিএম শাফিসহ কয়েকজন এ ঘটনায় জড়িত।
তবে ইউপি সদস্য এবিএম শাফি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে তিনি বাড়িতে অবস্থান করছেন। ভোররাতে এলাকার এক যুবক ফোন করে চোর সন্দেহে একজনকে আটকের কথা জানালে তিনি ওই যুবককে ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রাখার পরামর্শ দেন।”
এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতের স্বজনেরা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে নিশিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বগুড়া-নামুজা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করেন।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, “চোর সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”
তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে প্রায় এক ঘণ্টা পর স্বজনেরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন।
কেকে/সাশ