ছুটি ছাড়াই মাসজুড়ে অফিসে অনুপস্থিত, সঙ্গে একাধিক ভুয়া আইডি কার্ড ও সরকারি দাপ্তরিক সিল ঠিক যেন সিনেমাটিক কায়দায় দেশ ছাড়ার সব আয়োজন। তবে শেষ রক্ষা হলো না। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি আবাসিক হোটেলে আস্তানা গেড়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পলায়নের মূল ছক কষেও বিজিবির হাতে ধরা পড়েছেন উপজেলা নির্বাচন অফিসের এক কমচার্রী।
আটক ব্যক্তির নাম সুশান্ত চন্দ্র বিশ্বাস (৩৪)। তিনি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এবং কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থানার সাচাইল গ্রামের সত্যেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে।
হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গলে এসে একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন সুশান্ত। সেখান থেকেই এক দালালের মাধ্যমে সীমান্ত পার হওয়ার চুক্তি করেন। ছক অনুযায়ী রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে গুটিবাড়ী বিওপির মোংলামবস্তি চা বাগান এলাকা (সীমান্ত পিলার ১৯৩৯/এম) দিয়ে শূন্যরেখা পেরোনোর চেষ্টা চালান তিনি। ঠিক তখনই বিজিবির টহল দল তাকে হাতেনাতে আটক করে।
বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সুশান্ত গত এক মাস ধরে কোনো অনুমতি বা ছুটি ছাড়াই কর্মস্থল থেকে লাপাত্তা ছিলেন। নির্বাচন অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এতদিন তার কোনো হদিস পাচ্ছিলেন না। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুশান্ত স্বীকার করেন, হোটেল রুমে বসেই তিনি অবৈধভাবে ভারতে পলায়নের পুরো নীল নকশা তৈরি করেছিলেন। আটকের পর সুশান্তের সাথে থাকা তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে চমকপ্রদ তথ্য।
বিজিবি সুত্র জানায়, তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২টিতে নিজের নামের এনআইডি, বিভিন্ন ধরনের ৬টি পরিচয়পত্র, অফিসে ব্যবহৃত অফিশিয়াল দাপ্তরিক সিল, ২ টি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ও নগদ ১২ হাজার ১৮৫ টাকা। জব্দকৃত কাগজপত্র ও ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
এছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টার অভিযোগে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিজিবি। পাশাপাশি সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির নজরদারি আরও কঠোর করা হয়েছে।
কেকে/ এমএস