‘কাজ শেষে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা জানিয়েছিল। সেই যে গেল, আর ফিরল না। ২৫ দিন ধরে স্বামীর কোনো খোঁজ নেই। মোবাইলও বন্ধ। কোথায় আছে, কেমন আছে—কিছুই জানি না।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন আসমা খাতুন। তার স্বামী মো. রফিকুল ইসলাম (৫০) ২৫ দিন ধরে নিখোঁজ।
রফিকুল ইসলাম ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের দেবস্থান গ্রামের মৃত সবদর আলীর ছেলে।
কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করতে তিনি নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার পাঁচদোনা ইউনিয়নের পাটুয়া গ্রামে গিয়েছিলেন। গত ৭ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে সহকর্মী বকুলের সঙ্গে সেখান থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার পর থেকে তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে বিকেল ৫টার দিকে স্ত্রী আসমা খাতুনের সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেন রফিকুল। ফোনে তিনি বাড়ি ফেরার কথা জানান। এরপর থেকেই তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
পরিবারের ধারণা, ভৈরব সড়ক হয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল রফিকুলের। তার নিখোঁজের ঘটনায় গত ১৩ আগস্ট মাধবদী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডি নম্বর ৬৮৩। জিডি করার পরও তার সন্ধান মেলেনি। পরিবারের সদস্যরা নরসিংদী, ভৈরব, টঙ্গীসহ বিভিন্ন হাসপাতালেও খোঁজ করেছেন।
এদিকে রফিকুলের নিখোঁজের ঘটনায় জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সামনে এনেছে তার পরিবার। স্ত্রী আসমা খাতুনের দাবি, রফিকুলের নামে সাফকাওলা দলিল থাকা সত্ত্বেও প্রায় সাড়ে সাত শতক জমি প্রতিবেশী হেলাল উদ্দিন জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তার অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রফিকুলকে বিভিন্ন সময় মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
আসমা খাতুন বলেন, “আমার স্বামী দিনমজুর মানুষ। কারও সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা নেই। জমির বিরোধ নিয়ে আগে কয়েকবার মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। এখন ২৫ দিন ধরে তার কোনো খোঁজ নেই। আমরা খুবই আতঙ্কের মধ্যে আছি। আমার স্বামীকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পেতে চাই।”
রফিকুলের একমাত্র মেয়ে মোসা. অনন্ত খাতুন (২৮) বলেন, “বাবা কোথায় আছে, আমরা জানি না। ২৫ দিন ধরে খুঁজছি। আমাদের সন্দেহের বিষয়টি তদন্ত করে বাবাকে খুঁজে বের করার দাবি জানাই।”
পরিবারের দাবি, রফিকুলকে দ্রুত উদ্ধার করে তার নিখোঁজ হওয়ার কারণ ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হোক। নিখোঁজের সময় তার পরনে সাদা শার্ট ছিল। তার উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি, গায়ের রং শ্যামলা। সঙ্গে মোবাইল ফোন, টাকা ও একটি ব্যাগ ছিল।
জমিসংক্রান্ত বিরোধ ও রফিকুলের নিখোঁজের বিষয়ে জানতে হেলাল উদ্দিনের বাড়িতে গেলে কোনো পুরুষ সদস্যকে পাওয়া যায়নি। এ সময় তাঁর স্ত্রী নাজমা খাতুন বলেন, “তাদের সঙ্গে আমাদের জমিসংক্রান্ত বিরোধ আছে, সত্য। কিন্তু রফিকুল ইসলাম নিখোঁজের বিষয়টির মধ্যে রহস্য আছে। আমাদের হয়রানি করতে এটা তাদের সাজানো নাটকও হতে পারে।”
নিখোঁজ রফিকুল ইসলামের জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা মাধবদী থানার এসআই মো. আবদুল বাকের হাওলাদার বলেন, “জিডি করার পর নিখোঁজ রফিকুল ইসলামকে উদ্ধারে প্রযুক্তিগত ও আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
কেকে/সাশ