ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) মিউজিক অ্যাসোসিয়েশন ‘কুহরণ’-এর আয়োজনে ‘মেঘ ও সন্ধ্যার গান’ অনুষ্ঠানে মুখরিত ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। আগমনী, বৃষ্টি, মেঘ ও সন্ধ্যার গানের সুরে তৈরি হয় মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। গানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে বটতলা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় এ আয়োজন শুরু হয়। সারাদিনের ক্লাস-পরীক্ষার ব্যস্ততার পর গানের সুরে কিছুটা স্বস্তির সময় কাটাতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সেখানে জড়ো হতে দেখা যায়। নানা ধরনের গানের পরিবেশনায় তারা যেন ভুলে যান দিনের ক্লান্তি। পুরো আয়োজনজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল প্রাণচাঞ্চল্য ও উচ্ছ্বাস।
অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত, আধুনিক বাংলা গান, রোমান্টিক গান, ব্যান্ডসংগীত ও লোকসংগীত পরিবেশন করা হয়। গানের তালে তালে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে বটতলা ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আনন্দের আমেজ।
অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রাবেয়া খন্দকার বলেন, “আজকের সময়টা সত্যিই দারুণ কাটছে। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে, আর বৃষ্টির এই চমৎকার আবহাওয়াকে উদযাপন করতে এমন আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। একদিকে এক কাপ গরম চা, অন্যদিকে মনোরম গান—সব মিলিয়ে পরিবেশটা অন্যরকম হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে সুন্দর আলোকসজ্জা আয়োজনটিকে আরও প্রাণবন্ত করেছে। এমন স্নিগ্ধ পরিবেশ উপভোগ করতে পেরে সত্যিই ভালো লাগছে।”
একই বিভাগের শিক্ষার্থী ফারহান বলেন, “অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত শ্রুতিমধুর ও মনোরমভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এখানে বেশ কিছু শাস্ত্রীয় ও ধ্রুপদি গান পরিবেশন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ‘আবার এল যে সন্ধ্যা’, ‘মেঘলা মেঘলা দিনে’ এবং ‘আকাশে মেঘলা যেও না তো একলা’ উল্লেখযোগ্য। বর্তমান সদস্যদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সদস্যরাও এতে অংশ নিয়ে গান পরিবেশন করছেন। সব মিলিয়ে দর্শক-শ্রোতারা অনুষ্ঠানটি বেশ উপভোগ করছেন।”
মিউজিক অ্যাসোসিয়েশন ‘কুহরণ’-এর সভাপতি জেরিন তাসমিন পুষ্প বলেন, “কিছুদিন আগে আমরা সংগঠনে নতুন সদস্য সংগ্রহ করেছি। নতুন সদস্যদের বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি আমাদের প্রাক্তন সদস্য, অর্থাৎ সিনিয়র ভাই-বোনদের সঙ্গে তাদের পরিচয় ও সুসম্পর্ক তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সংগঠনে কাজ করলেও অনেক নতুন সদস্য সাবেকদের চেনেন না। তাই নবীন ও প্রাক্তন সদস্যদের মধ্যে দূরত্ব যেন তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যেই এ আয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “এখন চারদিকে বৃষ্টি ও মেঘের আবহ। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মেঘ ও সন্ধ্যার গান’। অনুষ্ঠানে আগমনী গান, বৃষ্টির গান, মেঘের গান ও সন্ধ্যার গান পরিবেশন করা হচ্ছে।”
কেকে/সাশ