ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিরোধে শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে এ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।
‘সবাই মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি, নিজ আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখি’ এবং ‘জমে থাকা পানি অপসারণ করি, ডেঙ্গুমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ি’—এমন স্লোগানে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্কাউট দলের সদস্যরা অংশ নেন।
কর্মসূচির শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখেন অংশগ্রহণকারীরা। পরে দলবদ্ধভাবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে পরিত্যক্ত পাত্র, বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি ও ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা অপসারণ করা হয়।
অভিযানে অংশ নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হাতে হাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নেন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে পড়ে থাকা আবর্জনা সরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা হয়। পাশাপাশি এমন কোনো স্থান যাতে দীর্ঘদিন অপরিচ্ছন্ন বা পানিবদ্ধ অবস্থায় না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নয়, মশা নিধনের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে হগার মেশিনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে মশা নিধন ওষুধ ছিটানো হয়। ক্যাম্পাসের শ্রেণিকক্ষ, অফিস, চলাচলের পথ ও আশপাশের এলাকায় মশার উপদ্রব কমাতে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হাবীবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. আব্দুস সালাম আকন্দ এবং উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. জিএম শফিউর রহমান।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্কাউট দলের সদস্যরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু ওষুধ ছিটানো বা মশা নিধন করলেই হবে না; মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও জরুরি। বিশেষ করে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই ক্যাম্পাসের কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকে সবাইকে নজর রাখতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ একটি সম্মিলিত দায়িত্ব। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে। ক্যাম্পাসের পাশাপাশি নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশও পরিষ্কার রাখতে হবে। কোনো পাত্র, ড্রাম, টব, পরিত্যক্ত টায়ার কিংবা অন্যান্য স্থানে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
প্রফেসর ড. মো. হাবীবুর রহমান বলেন, ‘একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ শিক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে ক্যাম্পাসকে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুধু একটি দিনের অভিযান নয়, নিয়মিতভাবে এ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকতে দেখা গেলে দ্রুত তা অপসারণ করতে হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।’
উপাচার্য বলেন, ‘ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন সম্মিলিতভাবে ক্যাম্পাস পরিষ্কার করা হবে।’
কেকে/এআই