বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত না হলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি এ কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, অতীতে দেশের সংখ্যালঘু ধর্মীয় ও জাতিগত জনগোষ্ঠীর ওপর বিভিন্ন সময় নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অনেক সময় রাষ্ট্র বা সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি; কখনো কখনো পরোক্ষভাবে সেগুলোকে সমর্থনও করা হয়েছে। এর ফলে বিচারহীনতার একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল।
তিনি বলেন, ‘সেই জায়গা থেকে আমরা অভ্যুত্থানের পরে বারবার বলে এসেছি, দেশে বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে।’
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মানবিক মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। এ লক্ষ্যেই তাদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের গণরায়ের বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিচারব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। এর ফলে দেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারে থাকা কিংবা বিরোধী দলে থাকা—সব রাজনৈতিক দলেরই দায়িত্ব হলো দেশে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখা। দেশের পরিস্থিতি এখন কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। কিন্তু এটাকে আমাদের একটি শক্তিশালী ভিত্তি দিতে হবে।’
দেশের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।
নাহিদ ইসলাম বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়সহ দেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে তাদের একটি বন্ধন রয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে তারা অংশগ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, ‘এগুলো আমাদের হাজার বছরের যে ঐতিহ্য, এই বদ্বীপের সভ্যতা, বহু সংস্কৃতি, বহু ধর্মের এই আদান-প্রদান, মিথস্ক্রিয়া ও যোগাযোগের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। এইটা আমাদের ধরে রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সমাজ ও সংস্কৃতিতেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।
কেকে/ এমএস