সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা জানিনা এ জাতির ভাগ্যে কি হবে। এখন উনারা একের পর এক দেশ ধ্বংস করবেন, দলীয়করণ করবেন, নির্লজ্জভাবে চাঁদাবাজি করবেন, আগের চাইতে বেশি রেটে ঘুষ নিবেন, দুর্নীতি করবেন; আর আমরা বসে বসে ললিপপ খাবো। আমাদেরকে জনগণ ললিপপ খাওয়ার জন্য ভোট দেয় নাই। আমরা যে নব্বই জন সংসদের ভেতরে আছি, এ নব্বই জন হচ্ছেন আঠার কোটি মানুষের পাহারাদার।’
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা টু চট্টগ্রাম লং মার্চে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমরা অধিকারের পক্ষে লড়াই শুরু করেছি, মূলত আজকের এ লং মার্চের মধ্য দিয়ে আমরা অধিকার আদায় করেই ঘরে ফিরবো ইনশাআল্লাহ। এ অধিকার জামায়াত, এনসিপি, খেলাপত মজলিসের নয়; এ অধিকার হচ্ছে আঠার কোটি মানুষের। আমরা দলীয় সংকীর্ণতায় ভুগিনা, আমরা দেশকে ভালবাসি, জনগণকে ভালবাসি, সেই জনগণের দাবির জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বলেছি আমাদের এ দাবি আদায়ের আন্দোলনে যদি কেউ কোনো বাঁধা দেয় তাহলে এ আন্দোলন দ্বিগুণ বেগে এগিয়ে যাবে। তৈরী থাকুন, আপনাদের সঙ্গে আমরা আছি। আমরা লড়ে যাবো। জনগণের বিজয় হাতে নিয়েই ঘরে ফিরবো।’
জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলনে সরকারের শুভবুদ্ধি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জাময়োতে আ সরকারের সমালোচনা করে বলেন, নির্বাচনের আগে আপনারা বলেছিলেন, অনির্বাচিত সরকার অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারছে না, আমরা নির্বাচিত হলে সবকিছুর সমাধান কর দিব। জনে জনে হাতে হাতে আলাদিনের প্রদীপ ধরিয়ে দিব, এখন সব প্রদীপ নিভে গেছে। নতুন প্রদীপ আর জনগণ দেখে না, এখন হারিকেন নিয়ে যখন মানুষ প্রতিবাদ করে তখন রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার পক্ষ থেকে বলা হয় এখানে সামনে হারিকেন আর পেছনে প্যান। পেছনে প্যানটা কীভাবে ঘুরছে উনি যদি ভালভাবে খোঁজ নিতেন তাহলে ভাল হতো।’
বিদ্যুৎ সংকটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কারেন্ট একটা জায়গায় ভাল পাওয়া যায় সেটা হলো জাতীয় সংসদ। ওখানে দাঁড়াইলে মন্ত্রী মহোদয় বলে আমাদের দেশে বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নাই। বুঝিনা, তারা কি চব্বিশ ঘন্টা চোখে টিনের চশমা পরে থাকে নাকি। এরা দেখেনা, এরা বুঝবেনা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলেছিলাম বিদ্যুতের যদি ঘাটতি হয় তাহলে জাতীয় সংসদেও হোক, মন্ত্রীপাড়ায়ও ঘাটতি হোক। কিন্তু জাতীয় সংসদ ও মন্ত্রীপাড়ায় কখনো বিদ্যুৎ এক সেকেন্ডের জন্যও যায় না। এজন্য উনারা দুঃখী জনগণের দুঃখ বোঝেন না। ছলনায়, ললনায় মানুষের ভোট পায় নাই, তারপর ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় গেছে। আল্লাহর বিচার আছে, আল্লাহর বিচার শুরু হয়েছে। উনারা বলেছেন উই হ্যাভ এ প্লান। আমরা কিন্তু এইটা বলি নাই। এখন বিরোধী দলকে বলে যে আপনারা প্লান দেন। তাইলে আপনারটা কি শেষ হয়ে গেছে নাকি?’
পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় সংসদ উপনেতা ডা. আবুদুল্লাহ মু. তাহের বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পর একটি নির্বাচিত সরকারের প্রতি মানুষ যে প্রত্যাশা ও পরিবর্তনের আশা করেছিল, বর্তমান সরকার তার ধারে কাছেও যেতে পারেনি। বরং বিএনপি সরকার আগের মতই সারাদেশে লুটপাট, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাস, হত্যাসহ গ্যাস বিদ্যুৎ ও পানির তীব্র সংকটে কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করছে না। জুলাই বিপ্লবের পর জনগণের যে আকাঙ্খা ছিল বিএনপি সরকার জনগণের সেই আকাঙ্খার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’
তিনি বলেন, ‘সংসদ ও সংসদের বাইরে বিএনপির মন্ত্রী ও এমপিরা যেভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন তাতে মনে হয় তারা আগের চেয়ে ভালো হয়ে গেছেন এবং জনগণের নিকট দেয়া সব ওয়াদা তারা পালন করবেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। তারা যা বলে বাস্তবে বিপরীতটাই তারা করে।’
তিনি গণভোটের গণরায়কে মেনে নিয়ে বিএনপি সরকারকে দেশ পরিচালনার আহ্বান জানান। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিরোধী দল সরকারের বিরুদ্ধে গণ আন্দোলন গড়ে তুলবে।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী মুহাম্মদ বেলাল হোসাইনের পরিচলানায় পথসভায় বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পাটির (এনসিপি) সদস্য সচিব আকতার হোসেন, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতে আমির অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে সাবেক আমির ভিপি সাহাব উদ্দিন, নাঙ্গলকোট উপজেলা জামায়াত আমির মাও. জামাল উদ্দিন, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা আমির মাও. ইব্রাহিম, উপজেলা খেলাফত মজলিসের আমির মাও. শাহজালাল, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা এনসিপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, জামায়াতের উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকী, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমির কাজী মো. ইয়াছিন, সেক্রেটারী মোশাররফ হোসেন ওপেল, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি নাসিম মিঁয়াজী প্রমুখ।
সভায় উপস্থিত ছিলেন এলডিপির সভাপতি কর্ণেল অলি আহমেদ বীরবিক্রম, জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারি সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা আবদুল হালিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. মোবারক হোসাইন, এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাছির উদ্দিনপাটোয়ারী প্রমুখ।
কেকে/এআই