রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২২ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ      কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে : প্রধানমন্ত্রী      বাসায় গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে এমন কার্ড চাইলেন আসিফ মাহমুদ      নিউইয়র্ক সফরে ট্রাম্প-তারেক রহমানের বৈঠকের সম্ভাবনা      হামে আরও চার শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ৯১৭      জাতিসংঘের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নেই : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী      বিমানকর্মীর কাছ থেকে ১৪ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার      
স্বাস্থ্য
রোগাক্রান্ত গরু জবাই, সুন্দরগঞ্জে পাঁচজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৬ এএম আপডেট: ০৬.০৯.২০২৬ ১০:২৯ এএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ফের গবাদিপশুর মাধ্যমে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রোগাক্রান্ত গরু জবাই ও মাংস কাটাকাটির পর পাঁচজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এতে খামারি ও পশু মালিকদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আক্রান্তদের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের জীবাণু রয়েছে কি না, তা এখনো পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্তদের শরীরে দেখা দেওয়া উপসর্গ দেখে প্রাথমিকভাবে অ্যানথ্রাক্সের সংক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না। এদিকে রোগটির বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

আক্রান্তরা হলেন উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের দুলাল গ্রামের মো. নবীর হোসেনের ছেলে মো. জাহেদুল ইসলাম (৫০), মো. আব্দুল কুদ্দুস মিয়ার ছেলে মো. খায়রুল ইসলাম (৩৫), মো. আজিজল হকের ছেলে মো. আজগর আলী (৪৮), মো. আজির উদ্দিনের ছেলে মো. আবুল হোসেন (৫০) এবং মো. হাবিজার রহমানের ছেলে মো. নাজমুল হক (৪০)।

আক্রান্ত মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, “এখনো পুরোপুরি সুস্থ হইনি। জীবাণু আছে কি না, তা নিয়ে আতঙ্ক কাজ করছে। অসুস্থ হওয়ার পর থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা ইউনিয়ন পরিষদের কোনো লোক খোঁজ নেননি। তবে পশু হাসপাতালের লোকজন এসেছিলেন এবং তারা গরু-ছাগলগুলোকে ভ্যাকসিন দিচ্ছেন।”

বেলকা ইউনিয়নের তরুণ উদ্যোক্তা ও খামারি জিয়াউর রহমান সরকার বলেন, “অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেই শুধু প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তৎপরতা চোখে পড়ে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেই তাদের আর খোঁজ থাকে না। নিয়মিত টিকাদান ও আগাম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা যথাযথভাবে হচ্ছে না। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের গাফিলতির কারণে অনেক খামারি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।”

সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার কসাই মো. নয়া মিয়া বলেন, “১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা মিলে সপ্তাহে প্রায় ৩০০টি গরু জবাই হয়। পৌরসভার গরুগুলো পরীক্ষা করে জবাই করা হয়। বাকি ১৫ ইউনিয়নের খবর জানি না। তবে পরীক্ষা ছাড়া কোনো গরু জবাই করা ঠিক নয়। প্রশাসনের তদারকি করা দরকার।”

কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনোয়ার আলম সরকার বলেন, “বিষয়টি আমি চৌকিদারের মাধ্যমে জেনেছি। শুনলাম পশু হাসপাতালের লোকজন এসেছিলেন। তারাও আমাকে জানাননি।”

তার ইউনিয়নে পরীক্ষা ছাড়াই যত্রতত্র গরু জবাইয়ের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, “সরকারিভাবে কোনো মনিটরিং নেই। সে কারণে এ অবস্থা।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে. এম. ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, “অসুস্থ গরুটি জবাই করা হয়েছে গত মাসের ২৫ তারিখে। আমরা সংবাদ পেয়েছি ৩১ তারিখে। এরপর গিয়ে আর মাংস পাইনি। কারও ফ্রিজে আছে কি না, সেটাও জানার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা বলেছেন, সব মাংস খাওয়া শেষ করেছেন। বর্তমানে ওই এলাকায় গরু-ছাগলকে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে।”

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আতিয়ার রহমান সোহাগ বলেন, “আক্রান্তদের লক্ষণ দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ থাকতে পারে। তবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারণ অ্যানথ্রাক্স শনাক্তে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা উপজেলা পর্যায়ে তো দূরের কথা, জেলা পর্যায়েও রয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “তাদের কেউই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেননি। আমরাই তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি।”

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, “পরীক্ষা ছাড়া কোনো গরু জবাই করার সুযোগ নেই। বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের। ভবিষ্যতে পরীক্ষা ছাড়া যেন কোনো গরু জবাই করা না হয়, সে বিষয়ে কসাইদের নিয়ে সভা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।”

পূর্বে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা

সুন্দরগঞ্জে এর আগেও অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের পশ্চিম বেলকা গ্রামের আবুল হোসেনের স্ত্রী মোছা. রোজিনা বেগম (৪৫) মারা যান।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোজিনা বেগমের তিনটি ছাগল ছিল। এর মধ্যে একটি ছোট ছাগল অসুস্থ হয়ে পড়লে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সেটি জবাই করেন তিনি। এ সময় তার হাতের আঙুলে ক্ষত হয়। পরে স্থানীয় পল্লিচিকিৎসকের পরামর্শ নেন। অবস্থার উন্নতি না হলে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে।

এ ছাড়া একই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বেলকা ইউনিয়নের কিশামত সদর গ্রামের মো. মাহবুবুর রহমানের একটি রোগাক্রান্ত গরু জবাই করা হয়। মাংস কাটাকাটির কাজে যুক্ত ছিলেন স্থানীয় ১১ জন। চার দিন পর, ২ অক্টোবর, তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোসকা দেখা দেয় এবং পরে সেসব স্থানে পচন ধরে। বিশেষ করে হাত, নাক, মুখ ও চোখে এসব উপসর্গ দেখা যায়। পরে তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন।

একই সময়ে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডেও অসুস্থ গরু জবাই ও মাংস কাটাকাটির সঙ্গে যুক্ত থাকায় ছয়জন আক্রান্ত হন বলে জানা গেছে।


কেকে/সাশ 



আরও সংবাদ   বিষয়:  সুন্দরগঞ্জ   অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

স্বাস্থ্য- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close