এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত পাঁচ শতাধিক কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলার শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক, শিক্ষক এবং ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেওয়া হয়।
পাশাপাশি ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নৈতিকতা, আদর্শ, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ বিল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আবু আহমেদ। প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য কর্নেল (অব.) ডা. জেহাদ খান, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মোহাম্মদ আজিজুল হক, সাবেক নায়েবে আমির মুসাদ্দেক ভূইয়া এবং জামায়াতের নবীন সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। পরে হামদ-নাত, কবিতা আবৃত্তি, দেশাত্মবোধক গান ও দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন শিক্ষার্থীরা। এসব পরিবেশনায় অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে অতিথিরা কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার তুলে দেন।
সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের কয়েকজন তাদের অনুভূতি ও ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন। ভালো ফলাফলের জন্য তারা বাবা-মা, শিক্ষক ও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে নিজেদের পছন্দের ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও এ ধরনের আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আরও ভালো করতে উৎসাহিত করবে। পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেই একজন শিক্ষার্থীর দায়িত্ব শেষ হয় না। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, সততা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চর্চা করতে হবে। ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগানোর জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই পড়াশোনায় ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নৈতিকতা ও আদর্শের আলোয় নিজেদের আলোকিত করতে হবে।’
নিজেদের মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতাকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর জন্যও তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত সাফল্য শুধু পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করাই সবচেয়ে বড় অর্জন। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল হয়ে ভবিষ্যতে দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে হবে।’
বক্তব্যে সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কখনো আমাদের রাজাকার বলা হয়েছে, কখনো বলা হয়েছে যুদ্ধাপরাধী। এখন নতুন একটা শব্দ বের হয়েছে ‘গুপ্ত’। তোমাদের এখানে আসার আগেও এ শব্দটি শুনলাম। এত চমৎকার শিল্পকলা একাডেমিতে একটা অনুষ্ঠান হচ্ছে, এরপরও কেউ না কেউ ফেসবুকে এসে বলবে ‘গুপ্ত’। অথচ তার সঙ্গেই আমরা একসঙ্গে বসে টকশো করছি, আবার তিনিই আমাদের বলছেন ‘গুপ্ত’।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ও নেতিবাচক প্রচারণা থেকে দূরে থেকে নিজেদের শিক্ষা, চরিত্র ও যোগ্যতা গঠনে মনোযোগী হতে হবে।’
কেকে/এআই