মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী      তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়তে হবে : পানিসম্পদমন্ত্রী      স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ      সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ কোটা কমাল সরকার      দেশে বিদ্যুৎ সংকটের অন্যতম কারণ গ্যাসের সংকট: ডা. জাহেদ      অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় এনসিপির ধিক্কার      আমাদের ধর্মীয় সম্প্রীতি যুগ যুগ ধরে অটুট থাকবে: রিজভী      
দেশজুড়ে
রাতের আঁধারে সংরক্ষিত বনের গাছ লুট, হুমকিতে পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য
মো. এহসানুল হক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩২ পিএম আপডেট: ০৮.০৯.২০২৬ ৫:৩৪ পিএম
ছবি: প্রতিবেদক

ছবি: প্রতিবেদক

রাত নামলেই বদলে যায় মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া, কালাছড়াসহ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের চিত্র। দিনের বেলায় যেখানে বনভূমি নীরব, রাত গভীর হলে সেখানেই  শোনা যায় করাতের শব্দ। কাটা হয় সেগুন, আগর, গর্জন, আকাশমণি, চাপালিশসহ মূল্যবান গাছ। এরপর দুর্গম পথ ধরে সেসব কাঠ পৌঁছে যায় বিভিন্ন করাতকলে। সেখানে গাছ গুঁড়ি থেকে তক্তা হলে হারিয়ে যায় তার পরিচয়_কোন বন থেকে এসেছে, কে কেটেছে, বৈধ নাকি  চোরাই_তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। জেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে গাছ চুরির অভিযোগের সঙ্গে বন সংশ্লিষ্ট ও করাতকলের এ যোগসূত্রই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানেও মিলছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটার চিহ্ন। 

সম্প্রতি সরজমিনে উদ্যানের ভেতরে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পেরিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির অন্তত ত্রিশটি গাছের কাটা গোড়া দেখা গেছে। 

স্থানীয়দের দাবি, এসবের মধ্যে সেগুন, আগর, আকাশমণি ও চাপালিশ রয়েছে। অথচ লাউয়াছড়া বিট কর্মকর্তার দাবি, সম্প্রতি উদ্যানের বনভূমি থেকে মাত্র একটি সেগুন গাছ কাটা হয়েছে। কবে কাটা হয়েছে, কারা কেটেছে, সেগুলোর বিষয়ে বন বিভাগ কী ব্যবস্থা নিয়েছে–সব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।

আর ঠিক এ সময়েই সামনে এসেছে আরেকটি ঘটনা। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) লাউয়াছড়ার জানকিছড়া সংলগ্ন শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়কের পাশ থেকে ভোরে কেটে নেওয়া হয়েছে বিশাল আকৃতির একটি সেগুন গাছ। প্রায় ৭ ফুট বেড়ের গাছটির বাজারমূল্য লাখ টাকার বেশি বলে জানা গেছে। 

অভিযোগ রয়েছে, বন সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে তেরপল দিয়ে ঢাকা একটি হলুদ রঙের ‘ডায়না ট্রাকে’ করে গাছটি পাচার করা হয়। ট্রাকটির সামনে মোটরসাইকেলে দুজনকে পাহারা দিতে দেখা যায় বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী। 

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, ওই রাতে জানকিছড়া গেটে দায়িত্বে ছিলেন সিপিজি সদস্য। লাউয়াছড়া প্রধান ফটকেও বিট কর্মকর্তা টহল পুলিশের দল নিয়ে ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অবস্থান করছিলেন বলে বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। তাহলে এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও সড়কের পাশ থেকে একটি বড় গাছ কিভাবে কেটে নিয়ে গেল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের অধীন কালাছড়া বনবিটের দুর্গম এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে গাছ চোর চক্র সক্রিয় রয়েছে। প্রতিদিন গভীর রাতে কিংবা শেষরাতে চক্রটির সদস্যরা বনে প্রবেশ করে গাছ কাটে। পরে পাহাড়ি দুর্গম পথ ব্যবহার করে সেগুলো দ্রুত পাচার করা হয়। দুর্গম এলাকায় এসব কর্মকাণ্ড হওয়ায় অনেক সময় সাধারণ মানুষের নজরেও পড়ে না। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতের বেলা প্রায়ই বনের ভেতর থেকে গাছ কাটার শব্দ শোনা যায়। কখনো কখনো গাছবোঝাই যানবাহন বনের রাস্তা দিয়ে বের হতে দেখা যায়। বাধা দিতে গেলে চোরাকারবারিদের পক্ষ থেকে হুমকির মুখে পড়তে হয়। 

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, কালাছড়া বনবিটের বর্তমান কর্মকর্তার যোগদানের পর গাছ পাচারের ঘটনা বেড়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কালাছড়া বনবিট কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম নাঈম। 

তিনি বলেন, ‘গাছ পাচারের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং আমি যোগদানের পর গাছ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সংখ্যক মামলা করেছি। গত ১ জুন ভোরে গাছসহ একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আটক করা হয়েছে।’ 

শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, ‘সেগুন গাছ চুরির বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। চুরি হয়ে যাওয়া মূল্যবান সেগুন কাঠ উদ্ধার এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ চুরির সঙ্গে বন বিভাগের ভেতরের কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

২৬৭ মামলায় ৫৭৬ আসামি, গ্রেপ্তার মাত্র ৩৮

বন রক্ষার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর মামলার পরিসংখ্যানও পরিস্থিতির ভয়াবহতার আরেকটি চিত্র তুলে ধরছে। সিলেট বিভাগের বনাঞ্চলে গাছ চুরি ও অন্যান্য ঘটনায় বন বিভাগ এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পৃথক ২৬৭টি মামলায় আসামি করা হয়েছে ৫৭৬ জনকে। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন মাত্র ৩৮ জন। মামলায় আসামি হওয়া ৯৩ শতাংশের বেশি ব্যক্তি এখনও গ্রেপ্তারের বাইরে।

বন বিভাগের ছয় মাসের হিসাব অনুযায়ী, মৌলভীবাজারসহ সিলেট বিভাগে বন আইনে ৯৫টিসহ মোট ১৭৭টি মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৮ হাজার ৪৫৯ ঘনফুট কাঠ ও ২২টি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে ৩৪৫ জনকে। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন মাত্র ২১ জন।

অন্যদিকে বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের ৯০ মামলায় আসামি ২৩১ জন। আটক হয়েছেন ১৭ জন। দুই সংস্থার হিসাব যোগ করলে– মামলা ২৬৭টি। আসামি ৫৭৬ জন। গ্রেপ্তার মাত্র ৩৮ জন। জব্দ কাঠ ৮ হাজার ৪৫৯ ঘনফুট ও জব্দ যানবাহন ২২টি। 

মামলা হচ্ছে, কাঠ জব্দ হচ্ছে, গাড়ি আটক হচ্ছে–কিন্তু অধিকাংশ আসামিই ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, মাঠে ধরা পড়ছে কি শুধু কাঠ ও বাহক, আর আড়ালে থেকে যাচ্ছে মূল চক্র।

মৌলভীবাজারে ১৯৩ করাতকল 

মৌলভীবাজারে রয়েছে ৫৩ হাজার ১০৯ একর সংরক্ষিত বনভূমি। এ বনাঞ্চল ঘিরে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১৯৩টি করাতকলের তথ্য দিয়েছে বন বিভাগ। এর মধ্যে ১৪২টির লাইসেন্স রয়েছে। লাইসেন্সবিহীন হিসেবে চিহ্নিত করাতকল ৫১টি। এসবের মধ্যে ৪০টি উচ্চ আদালতে রিট ও স্বত্ব মামলা করেছে। 

বনাঞ্চলের পাশে করাতকলে কাঠের স্তুপ

কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া, বড়লেখা ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সংরক্ষিত বন ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের আশপাশে গড়ে উঠেছে একের পর এক করাতকল। কোথাও সড়কের পাশে, কোথাও বনাঞ্চলের কাছাকাছি। দিন রাত চলছে গাছ চেরাই। করাতকলের সামনে স্তুপ করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের গুঁড়ি। এসব কাঠের কতটা বৈধ আর কতটা বন থেকে চুরি করে আনা–তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। করাতকলগুলোতে নিয়মিত কাঠ চেরাইয়ের কার্যক্রমও চোখে পড়ে। ফলে প্রশ্ন উঠছে–সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে বের হওয়া গাছের কাঠ কীভাবে এসব করাতকলে পৌঁছাচ্ছে এবং চেরাইয়ের আগে কাঠের বৈধ উৎস যাচাই করা হচ্ছে কি না। 

চোরাই কাঠ শনাক্ত করা কঠিন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন করাতকল মালিকও স্বীকার করেন, জেলায় কিছু করাতকল লাইসেন্স ছাড়াই চলছে। আবার কয়েকটি করাতকলের মালিক উচ্চ আদালতে রিট করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অনেক করাতকলের সামনে স্তুপ করে রাখা গাছের গুঁড়ি। দিনের বেলায় চলছে কাঠ চেরাই। বৈধ কাঠের সঙ্গে চোরাই কাঠও বিক্রি করা হয় বলে তাদের অভিযোগ। 

তাদের ভাষ্য, গাছটি বনে থাকা অবস্থায় সেটি চোরাই–এ কথা বোঝা যায়। কিন্তু করাতকলে নিয়ে চেরাই করে ফেললে তার উৎস শনাক্ত করা অনেক কঠিন। এ কারণেই করাতকলকে শুধু কাঠ চেরাইয়ের জায়গা হিসেবে নয়, চোরাই কাঠের সম্ভাব্য ‘বৈধকরণ কেন্দ্র’ হিসেবেও দেখছেন পরিবেশকর্মীরা।

কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব

পরিবেশকর্মীদের অভিযোগ, অবাধে গাছ নিধন ও অবৈধ করাতকল বন্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তৎপরতা যথেষ্ট নয়।

পরিবেশকর্মী নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় অসংখ্য অবৈধ করাতকল রয়েছে। প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই কয়েকটি করে করাতকল দেখা যায়। প্রতিনিয়ত গাছ চুরি হচ্ছে। এসব গাছ কোথায় যাচ্ছে, সেটি খুঁজে বের করা জরুরি।’

তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্যে পরিবেশ রক্ষায় প্রথমে অবৈধ করাতকল বন্ধ করতে হবে। শুধু বন থেকে গাছ চুরি ঠেকালেই হবে না, চোরাই কাঠের বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থাও নজরদারির আওতায় আনতে হবে।

লোকবল নেই, গাড়ি নেই

বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে এসেছে নজরদারির সীমাবদ্ধতার কথাও। সিলেট বিভাগীয় বন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, তাদের দপ্তরে স্টাফ ঘাটতি প্রায় ৪০ শতাংশ। বিট ও রেঞ্জ পর্যায়ে মোটরসাইকেল ও টহল পিকআপ গাড়িরও ঘাটতি রয়েছে। 

পরিবেশবিদদের মতে, শুধু বনের ভেতর টহল বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। গাছ কাটার পর সেটি কোন পথে বের হচ্ছে, কোন যানবাহনে যাচ্ছে, কোন করাতকলে ঢুকছে এবং পরে কার কাছে বিক্রি হচ্ছে–পুরো চক্রকে নজরদারিতে আনতে হবে।

৩৫ বছর আগের বন এখন নেই

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লাউয়াছড়া রেঞ্জের সাবেক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘৩৫ বছর আগেও কমলগঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ছিল অনেক বেশি ঘন ও সমৃদ্ধ। এখন সেই চিত্র নেই। বনের বড় গাছ কমে যাওয়ায় বন্যপ্রাণীরা আবাসস্থল ও খাদ্য হারাচ্ছে। বড় বড় গাছ কেটে ফেলায় অনেক জায়গা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। এতে বনাঞ্চলের স্বাভাবিক পরিবেশ ও প্রতিবেশব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’ 

পরিবেশকর্মী নুরুল মোহাইমিন মিল্টনের অভিযোগ, রাস্তার পাশে গাছ কাটার ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় তা দ্রুত জানা যায়। কিন্তু বনের গভীরে গাছ কাটার অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না।

রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার ও বিপন্ন হচ্ছে বন 

বনাঞ্চল থেকে মূল্যবান গাছ চুরি ও অবৈধভাবে করাতকলে চেরাইয়ের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত  হচ্ছে সংরক্ষিত বনভূমি। একই সঙ্গে সরকারও হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। মৌলভীবাজারের সংরক্ষিত বনাঞ্চল শুধু কাঠের উৎস নয়; এসব বন বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বন উজাড়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থলও। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীদের দাবি, অবৈধ করাতকল বন্ধে নিয়মিত অভিযান, লাইসেন্সের তথ্য প্রকাশ, করাতকলে আসা কাঠের উৎস যাচাই এবং চোরাই কাঠের সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। 

জেলার ৫৩ হাজার ১০৯ একর সংরক্ষিত বনভূমির চারপাশে করাতকলের বিস্তার, লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি এবং চোরাই কাঠের অভিযোগ–সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ও সমন্বিত ব্যবস্থা না নিলে মৌলভীবাজারের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হারাবে। হুমকিতে পড়বে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল, ক্ষতিগ্রস্ত হবে জীববৈচিত্র্য্য এবং দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়বে পুরো অঞ্চলের পরিবেশে।

আঁতাতের’ অভিযোগ

অবৈধ করাতকল চালু রাখতে বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কিছু কর্মীর সঙ্গে মালিকদের আঁতাত রয়েছে–এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কাঠ ব্যবসায়ী। বন বিভাগও এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কালাছড়া বনবিট কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম নাঈম তার বিররুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে অপপ্রচার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। 

তিনি বলেন, ‘গাছ পাচারের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং দায়িত্ব নেওয়ার পর গাছ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সংখ্যক মামলা করেছেন।’ 

সচেতনমহলের দাবি, মৌলভীবাজারের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গাছ চুরি, পরিবহন, করাতকলেচেরাই এবং পরে সেই কাঠ বাজারজাত–পুরো প্রক্রিয়াটি কার্যকরভাবে নজরদারি করা না গেলে চোরাই কাঠের উৎস শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। 

বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশকর্মীদের মতে, একটি গাছ বন থেকে কেটে নেওয়ার পর সেটি করাতকলে গিয়ে গুঁড়িতে পরিণত হলে তার ভৌগোলিক উৎস শনাক্তের সুযোগ কমে যায়। ফলে শুধু বনের ভেতর পাহারা বাড়িয়ে কাঠ চুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, করাতকল ও কাঠের বাজারেও একই সঙ্গে নজরদারি বাড়াতে হবে। 

মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও করাতকলের লাইসেন্স বন বিভাগ থেকে দেওয়া হয়। আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। এ কারণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয় না।’

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান বলেন, ‘মৌলভীবাজারে অনেক সংরক্ষিত বন রয়েছে। গত কয়েক বছরে বেশ কিছু লাইসেন্সবিহীন করাতকল বন্ধ করা হয়েছে। সম্প্রতি কমলগঞ্জেও একটি অবৈধ করাতকল বন্ধ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেসব করাতকলের কাগজপত্র রয়েছে, সেগুলো প্রতিবছর নবায়ন করতে হয়। লাইসেন্সবিহীন করাতকলের বিররুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও সিলগালা করা হচ্ছে। তবে উচ্চ আদালতে রিট করা করাতকলগুলোর বিষয়ে জটিলতা রয়েছে। অনেক করাতকল উচ্চ আদালতে রিট করায় সেগুলো বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।’

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  রাতের আঁধার   বনের গাছ লুট   হুমকি   পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

দেশজুড়ে- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close