বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ ও নারী ফুটবল দলের নতুন জার্সি উন্মোচন করা হয়েছে। নতুন জার্সি দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সহজলভ্য করতে সারা দেশে ১৩৫টি ইনফিনিটি স্টোরে পাওয়া যাবে।
আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটরিয়ামে জার্সি উন্মোচন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
খেলোয়াড়েরা যে জার্সি পরবেন, সেটির দাম ১ হাজার ৬০০ টাকা, সমর্থকদের জন্য তৈরি করা জার্সির মূল্য ৭০০ টাকা।পাশাপাশি ঢাকার বনানীতে জার্সি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দৌড়’-এর নিজস্ব একটি শপের মাধ্যমেও বিক্রি করা হবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অফিসিয়াল জার্সি। দেশের বাজারের পাশাপাশি ইউরোপের বাজারেও পাওয়া যাবে হামজা, জামাল, মারিয়া, ঋতুপর্ণাদের নতুন জার্সি।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে দৌড় এরই মধ্যে জাতীয় দলের জার্সিকে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশের জার্সি ফিফা মিউজিয়ামে স্থান পেয়েছে, সিঙ্গাপুরের খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে এবং বর্তমানে ইউরোপের বাজারেও পাওয়া যাচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী প্রতি দলের জন্য বছরে ৪০০ সেট করে ছয়টি দলের জন্য মোট ২ হাজার ৪০০ সেট জার্সি সরবরাহের কথা থাকলেও ২০২৫ সালে দৌড় ১৬ হাজার ৩৫০টিরও বেশি জার্সি, ট্র্যাকস্যুট, পোলো শার্টসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী সরবরাহ করেছে বলে বাফুফে থেকে জানানো হয়েছে।
জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল, দৌড়’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও আবিদ আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা যখন খেলেছি, তখন জার্সি উন্মোচন বা ব্র্যান্ডিং নিয়ে এত কিছু ভাবতাম না। কর্মকর্তারা স্থানীয়ভাবে একটি জার্সি বানিয়ে দিতেন, আমরা সেটা পরে মাঠে নেমে যেতাম। আজ সেই বাংলাদেশের জার্সি সারা বিশ্বে পরিচিত হয়েছে। বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। আমি সবাইকে আহ্বান জানাবো, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পাশে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের জার্সিকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও এগিয়ে আসুন। বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে, আর এই উদ্যোগে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’
তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘জার্সিটা কিন্তু আমাদের আরেকটা পতাকা। এই জার্সিটা আপনারা দেখেছেন, ঢাকা স্টেডিয়াম, সিঙ্গাপুর স্টেডিয়াম, হংকং স্টেডিয়াম এবং সর্বশেষ সান মারিনোর স্টেডিয়ামে। সবাই যখন একই সাদা জার্সি পরে, একই লাল জার্সি পরে, অথবা গ্রিন জার্সি পরে স্টেডিয়ামে যায়, তখন এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য যে ঐ দেশের, ঐ ফ্যানদের কাছে বাংলাদেশ একটা বড় দল হয়ে ওঠে।’
জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সিলেট জেলা স্টেডিয়াম ও কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম ২২ বছরের জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছ।
হস্তান্তরের আওতায় উভয় স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারযোগ্য খেলার মাঠ, দর্শক গ্যালারি, প্যাভিলিয়ন ভবন, ড্রেসিং রুম, মিডিয়া সেন্টার, প্রবেশপথ, ক্যান্টিন, টয়লেট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, প্রশাসনিক ভবন (প্রথম পক্ষের ব্যবহারযোগ্য এলাকা ব্যতীত), ডরমিটরি এবং ফ্লাডলাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
স্টেডিয়াম দুইটি বাফুফের কাছে হস্তান্তরের চুক্তিতে সই করেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) মোহাম্মদ জাহেদ পারভেজ চৌধুরী ও বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার।
কেকে/