রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার জামিয়া রহমানিয়া মাদরাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের তৃতীয় শ্রেণির আবাসিক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক আত্মগোপনে আছেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের খোপাতী গ্রামের মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত শিক্ষক আজিজুল ইসলাম আজিজ (৩৫) কোতোয়ালী থানার পালিচড়া এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাতে মাদরাসার শিক্ষক আজিজুল ইসলাম আজিজ খেদমতের কথা বলে ১৩ বছর বয়সী ওই আবাসিক ছাত্রকে ডেকে নিয়ে বলাৎকার করেন। এর আগেও একাধিকবার ওই ছাত্রকে বলাৎকারের ঘটনা ঘটান ওই শিক্ষক। ঘটনা প্রকাশ না করতে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্র।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবার রাতেই মাদরাসায় এসে ছাত্রটিকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে যায়। পরদিন মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি আপোষ-মীমাংসার কথা থাকলেও অভিযুক্ত শিক্ষক আজিজুল ইসলাম আজিজ মাদরাসা কতৃপক্ষের সহায়তায় কৌশলে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যান।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্বজনরা মাদরাসায় উপস্থিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক থাকায় এবং কোন সামাজিক মীমাংসা না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্বজনরা ও স্থানীয় বাসিন্দাগণ। একপর্যায়ে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের চরম বাকবিতণ্ডা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে কাউনিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ওই ছাত্র, তার বাবা এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদরাসার শিক্ষকদের থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে কাউনিয়া থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘বলাৎকারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে, খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিম ও তার বাবাকে থানায় নিয়ে আসে। সেই সঙ্গে সহায়তার জন্য মাদরাসার তিনজন শিক্ষককেও থানায় নিয়ে আসা হয়। ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার পেলেই আইনগত ব্যবস্থা ও মামলা রুজু করা হবে। অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন, তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
কেকে/এআই