দেশে সংক্রামক রোগ হাম ও মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও ডেঙ্গুতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হাম ও হামজনিত উপসর্গে সাত শিশু এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামজনিত উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৯৪ জন এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৪৯২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামজনিত উপসর্গে মারা যাওয়া সাত শিশুর মধ্যে তিনজন ঢাকার এবং রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের একজন করে রয়েছেন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ২৯ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে এবং ১ হাজার ১৬৫ জনের মধ্যে হামজনিত উপসর্গ পাওয়া গেছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও হামজনিত উপসর্গে মোট ১ হাজার ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামজনিত উপসর্গে ৯০৯ জন এবং নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে ১০০ জন মারা গেছেন। এ সময়ে হাম ও হামজনিত উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭৮ জন। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত ১৯ হাজার ৯৩৩ জন। এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৮৮৮ জন।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪৯২ জন ডেঙ্গু রোগী।
নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮৪ জন খুলনা বিভাগের। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২০২ জন, বরিশাল বিভাগে ১৭৮ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫১ জন, রাজশাহী বিভাগে ১২২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৮১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮০ জন, রংপুর বিভাগে ৫৪ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে মোট ৪৮ হাজার ৪৩০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১৩৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৮৫৭ জন।
কেকে/এমএ