কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (কুমেক) রোগীর চাপ বাড়লেও বাড়েনি জনবল। প্রয়োজনীয় সংখ্যক নার্স ও অন্যান্য কর্মী না থাকায় নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এ গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালটি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এ হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল রয়েছে ২৫০ শয্যার। এর মধ্যে হাসপাতালটির ৩৯টি বিভাগে চিকিৎসক রয়েছেন ২১৪ জন। নার্স রয়েছেন ৫১৪ জন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য রয়েছেন ১১ জন। এছাড়াও চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী রয়েছেন ৬৩ জন। এ ৬৩ জনের মধ্যে অনেককেই অফিসিয়াল কাজে নিয়োজিত করা হয়।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালটির ৩৯টি বিভাগে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী রয়েছেন। কেউ রয়েছেন বেডে, আবার কাউকে রাখা হয়েছে ফ্লোরে। রোগী ও তাদের স্বজনদের মিলিয়ে যেন তিল ধারণেরও ঠাঁই নেই কোথাও।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শনিবার বিকেল পর্যন্ত এ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১ হাজার ৩৯২ জনের বেশি রোগী। আর বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় ৩ হাজার রোগী। সব মিলিয়ে প্রতিদিন হাসপাতালটিতে রোগী ও রোগীর স্বজনসহ ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এ ছাড়াও ভর্তি একজন রোগীর সঙ্গে তিন থেকে চারজন স্বজন থাকেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বহির্বিভাগের একজন চিকিৎসক বলেন, ‘দুই থেকে তিন গুণ বেশি রোগী দেখতে হয়। সবসময়ই চাপ থাকে। রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় আমাদের। এ ছাড়াও প্রয়োজনীয় জনবল থাকলে সেবার মান আরও বাড়ানো সম্ভব হতো। দীর্ঘ অপেক্ষা, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সময় লাগা এবং চিকিৎসক-নার্সদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পরে। সব মিলিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন রোগীরা।’
দেবিদ্বার থেকে কুমেক হাসপাতালে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন জামাল মিয়া বলেন, ‘ডাক্তারদের কী দোষ। এখানে যেই পরিমাণ রোগী ভর্তি হয়, তাদের চিকিৎসা দিতে ডাক্তাররা হিমশিম খান। আজ ১০ দিন হলো এ হাসপাতালে আছি। অনেকগুলো বিভাগ ঘুরে দেখেছি। রোগী বেডে জায়গা না পেয়ে ফ্লোরে বিছানা করে চিকিৎসা নিচ্ছেন।’
হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মো. শাহজাহান বলেন, ‘কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল ৫০০ শয্যার হলেও এখানে রয়েছে ২৫০ শয্যার জনবল। বর্তমানে ১ হাজার ৩৯২ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। একজন রোগীর সঙ্গে গড়ে আরও তিনজন করে স্বজন থাকলেও রোগী ও স্বজন মিলিয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে আসা মানুষের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে যায়। এত বিপুলসংখ্যক রোগী ও স্বজনের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।’
কেকে/এআই