ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে যাত্রীবাহী একটি জাহাজ ডুবে যাওয়ার পর নিখোঁজ ১২৯ জনকে উদ্ধারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে দেশটির কোস্টগার্ড, নৌবাহিনীসহ বিভিন্ন উদ্ধারকারী সংস্থা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) উত্তাল সাগরে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
উদ্ধার সংস্থা জানায়, ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮ নামের জাহাজটি ২৪৩ জন আরোহী নিয়ে পূর্ব জাভার সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমান্তানের বাঞ্জারমাসিনের উদ্দেশে যাচ্ছিল। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে সেটি জাভা সাগরে উল্টে থাকতে দেখা যায়। এখন পর্যন্ত ১০৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
জাতীয় উদ্ধার সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ সাইফি বলেন, “সোমবার সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ ও প্রবল বাতাসের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কয়েকটি জাহাজও উল্টে যাওয়া জাহাজটির কাছে যেতে সমস্যায় পড়ছে।”
তিনি জানান, নিখোঁজদের উদ্ধারে অন্তত ৬২২ জন উদ্ধারকর্মী, ১৭টি জাহাজ, পাঁচটি হেলিকপ্টার ও একটি বিমানমোতায়েন করা হয়েছে। পানির নিচে উদ্ধারকাজে দক্ষ কর্মীদেরও পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে। তবে বর্তমান সমুদ্র পরিস্থিতিতে ডুবুরি দল নামানো সম্ভব হচ্ছে না।
সাইফি বলেন, “আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতির অপেক্ষায় থাকার পাশাপাশি বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন আরও উদ্ধারকর্মী চিহ্নিত করা হচ্ছে। এ সময় তিনি জানান, দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ছয়জনই রয়েছে।”
উদ্ধার সংস্থার প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, লাল-কালো রঙের বড় জাহাজটি উত্তাল নীল পানিতে কাত হয়ে উল্টে আছে এবং এর কিছু অংশ পানির ওপরে রয়েছে। কাছাকাছি দুটি ছোট নৌকায়ও কয়েকজনকে দেখা যায়।
উদ্ধার সংস্থার কর্মকর্তা আরিয়ান্তো আরদি জানান, ঘটনাস্থলটি বানজারমাসিনের ত্রিসক্তি বন্দরের কমান্ড সেন্টার থেকে প্রায় ৮০ নটিক্যাল মাইল বা প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে। সেখানে প্রবল বাতাস থাকায় উদ্ধারকারী জাহাজ নোঙর করতেও সমস্যায় পড়ছে।
তিন মিটার ঢেউয়ে বিপর্যয়
মোহাম্মদ সাইফি বলেন, দুর্ঘটনার সময় সমুদ্রের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত খারাপ। তখন প্রায় তিন মিটার উচ্চতার ঢেউ জাহাজটির ওপর আছড়ে পড়ছিল। ভালো আবহাওয়ায় ত্রিসক্তি বন্দর থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে বৈরী আবহাওয়ায় সময় লাগে নয় ঘণ্টা পর্যন্ত।
রোববার আরেক কর্মকর্তা এডি প্রকোসো জানান, প্রবল ঢেউ জাহাজটির ডান পাশের অংশে আঘাত করার পর এটি একদিকে ব্যাপকভাবে কাত হয়ে যায়।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি জানিয়েছেন, জাহাজটির ধারণক্ষমতা ছিল ৫০০ যাত্রী। ফলে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেনি বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রায় ১৭ হাজার দ্বীপের দেশ ইন্দোনেশিয়ায় দ্বীপগুলোর মধ্যে যাতায়াতে ফেরি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। আকাশপথের তুলনায় সমুদ্রপথে যাতায়াত সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হওয়ায় দেশটিতে এ ধরনের নৌযান দুর্ঘটনাও নিয়মিত ঘটে।
গত মাসেও পৃথক দুটি ঘটনায় শত শত যাত্রী বহনকারী দুটি ফেরিতে আগুন লাগে। মাদুরা দ্বীপের কাছে একটি ফেরিতে আগুন লেগে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। আর পর্যটন দ্বীপ বালি থেকে ছেড়ে যাওয়া আরেকটি ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডে একজন নিহত হন।
সূত্র: রয়টার্স
কেকে/সাশ