প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের স্বার্থ ও সেবাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তার প্রেস সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী। তার ভাষ্য, সরকারের কর্মকাণ্ডের ফলে রাষ্ট্রের মালিকানা যে জনগণের—এমন উপলব্ধি সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হচ্ছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের গত এক মাসের কার্যক্রম তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সালেহ শিবলী এসব কথা বলেন। এতে সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন প্রধান উপপ্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি।
সরকারের জবাবদিহি প্রসঙ্গে সালেহ শিবলী বলেন, “প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরার পাশাপাশি গণমাধ্যম সরকার ও জনগণের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।”
তিনি জানান, সংসদীয় ব্যবস্থায় জাতীয় সংসদ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারি কর্মকাণ্ডের তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতি মঙ্গলবার তথ্য উপদেষ্টা সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কার্যক্রমও পিএমও বাংলাদেশের মাধ্যমে প্রকাশ করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্রের মাধ্যমে সাংবাদিকদের তথ্য দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মব্যস্ততা তুলে ধরে প্রেস সচিব বলেন, “প্রতিদিনের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী খোঁজখবর রাখছেন। সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মানুষের সমস্যা ও অভিযোগ তার নজরে এলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, কর্মকর্তা কিংবা জনপ্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনাও করছেন তিনি।”
সালেহ শিবলী বলেন, “১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২১২ দিন পার হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নেওয়া বেশ কিছু উদ্যোগের সুফল মানুষ পেতে শুরু করেছেন। তবে কিছু কাজের ফল পেতে আরও সময় প্রয়োজন। সরকারের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা ও ধৈর্য দরকার বলেও তিনি উল্লেখ করেন।”
রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এ ধরনের পরিবর্তন একদিনে আসে না। এজন্য সময় প্রয়োজন এবং ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যেতে হবে।”
গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সালেহ শিবলী বলেন, “দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল, সেটি বর্তমানে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” পরিস্থিতির আরও উন্নতি হলে সাধারণ মানুষ এর সুফল দ্রুত পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
২০২২ সালের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর দেশে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিলে তৎকালীন সরকারকে বিভিন্ন জরুরি পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। এর মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো, সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন এবং ব্যাংকিং কার্যক্রমের সময় কমানোর মতো সিদ্ধান্ত ছিল।” দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার পরও ওই সরকারকে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় এসব বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কেকে/সাশ