সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম: ● ছাত্র আন্দোলনের মুখে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ      ● নানা বিতর্কে আস্থা হারাচ্ছে বিএনপি      ● তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ সংবিধানের দুই অনুচ্ছেদে গণভোট চায় বিএনপি      ● হাম ও ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেল ১৫ জনের      ● ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ছয়জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ২১৫৮       ● হামের উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩৪১      ● জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে : মন্ত্রী টুকু      
খোলা মত ও সম্পাদকীয়
চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধ হোক
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০২ এএম
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

বিএনপি সরকারের ৮ মাস পার হলো। নতুন সরকারকে ঘিরে জনমনে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা দিনে দিনে ম্লান হয়ে যাচ্ছে দলীয় পরিচয়ধারী একশ্রেণির দখলবাজ-চাঁদাবাজের কর্মকাণ্ডে। গত কয়েক দিনে রাজধানীর ভেতরেই একের পর এক যেসব ঘটনা ঘটেছে, তা উদ্বেগজনক এবং লজ্জাজনক। 

মিরপুরে একটি মাতৃ-শিশুস্বাস্থ্যকেন্দ্র রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, ইসিবি চত্বরে একজন কনটেন্ট নির্মাতার স্টুডিওতে অস্ত্র নিয়ে হামলা-লুটপাট হয়েছে, আদাবরে একটি বহুতল বাড়িতে রামদা-চাপাতি-পিস্তল নিয়ে দখলচেষ্টা হয়েছে, আর মোহাম্মদপুরে শত শত মানুষ একটি প্লট ঘিরে ভাঙচুর-লুটপাট চালিয়েছে। এসব ঘটনার প্রতিটির পেছনেই কম-বেশি একই চিত্র— সংঘবদ্ধ, অস্ত্রধারী জনতা, প্রশাসনের বিলম্বিত উপস্থিতি এবং স্থানীয় ক্ষমতাবলয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকটি হলো- এসব ঘটনার অনেকগুলোতেই ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। মিরপুরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধ্বংসের ঘটনায় সংরক্ষিত আসনের একজন সংসদ সদস্যের নাম এসেছে; মোহাম্মদপুরের প্লট দখলের সঙ্গে স্থানীয় দলীয় নেতাদের সংশ্লিষ্টতার কথা বলছেন বাসিন্দারা। এসব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণসাপেক্ষ, তবে অভিযোগ ওঠামাত্রই বিষয়টিকে লঘু করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বরং যত দ্রুত এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হবে, ততই সরকার ও দলের জন্য মঙ্গল।

জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে— এটি বাংলাদেশে খুব স্বাভাবিক একটি বাস্তবতা। কিন্তু মালিকানার দাবি নিষ্পত্তির পথ আদালত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, দুই শতাধিক অস্ত্রধারী লোক জড়ো করে রাতের আঁধারে একটি স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া কোনো সভ্য দেশের কাজ নয়। আদাবরের ঘটনাটি এ প্রসঙ্গে বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য— আদালতের দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে সাত মাস আগে প্রকৃত মালিক দখল ফিরে পেলেও দুর্বৃত্তরা আবার অস্ত্র নিয়ে হাজির হয়েছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, আইনি প্রতিকার পাওয়ার পরও দখলবাজ চক্রের দৌরাত্ম্য থামছে না, বরং তারা বারবার একই কৌশলে ফিরে আসার সাহস পাচ্ছে। তাদের এই সাহসের পেছনের উৎস খতিয়ে দেখলে প্রায়ই ক্ষমতাসীনদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। 

এই সাহসের উৎস কোথায়, তা খুঁজে বের করা জরুরি। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে কল করার তিন ঘণ্টা পর পুলিশ পৌঁছানো, শত শত মানুষের প্রকাশ্য তাণ্ডবের সময়ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর উপস্থিতি না থাকা— এসব ঘটনা প্রশাসনিক সক্ষমতা ও তৎপরতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। যেখানে অভিযুক্তদের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকে, সেখানে এই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে ওঠে— স্থানীয় প্রশাসন কি প্রভাবশালীদের সামনে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছে?

আমরা মনে করি, সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার প্রশ্নে এখনই কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। প্রথমত, প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে হবে— তারা যে দলেরই হোন না কেন এবং যত প্রভাবশালীই হোন না কেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদিও বলেছেন ভাঙচুর লুটপাটে জড়িতদের দলীয় পরিচয় আমলে নেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে রাড্ডা ক্লিনিকে হামলাকারীদের ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। যা নিসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু এই তৎপরতা সমগ্র দেশজুড়ে দেখাতে হবে। দ্বিতীয়ত জরুরি সেবায় সাড়া দেওয়ার সময় কমিয়ে আনাসহ স্থানীয় থানা পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে অভিযোগ পাওয়ার পরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিষ্ক্রিয়তা না দেখা যায়।

একটি গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশা ছিল আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ হওয়া। সেই প্রত্যাশার বিপরীতে যদি প্রতিদিন কোথাও না কোথাও অস্ত্রধারী দলবল নিয়ে দখল-লুটপাটের খবর আসে, তবে তা শুধু সরকারের ভাবমূর্তিই নয়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধকেও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। 

দখলবাজদের বিরুদ্ধে দৃঢ়, নিরপেক্ষ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প আমরা দেখছি না। দেশ সামগ্রিক  অর্থনীতির বেহাল দশা, জ্বালানি সংকট, মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষ হাসফাস করছে তার ওপরে ভয়াবহ রকম নিরাপত্তাহীনতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি সরকার তথা রাষ্ট্রের প্রতি জনআস্থাকে ভয়াবহ রকম ক্ষতিগ্রস্ত করছে। 

কেকে/ এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খোলা মত ও সম্পাদকীয়- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close