বাংলাদেশে বন্যা শুধু ঘরবাড়ি ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত করে না, পানি নেমে যাওয়ার পরও দীর্ঘদিন এর প্রভাব থেকে যায়। এ বাস্তবতায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের উদ্যোগ নিয়েছে দারাজ বাংলাদেশ। প্রতিষ্ঠানটি সিলেটের মৌলভীবাজার এবং চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালীর ৯০০-এর বেশি পরিবারকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা দিচ্ছে। পাশাপাশি আরও এক হাজার পরিবারের মধ্যে বন্যাকালীন নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
দারাজ বাংলাদেশ জানিয়েছে, তিন ধাপে সাজানো এ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে জরুরি ত্রাণ বিতরণ, বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন সহায়তা এবং বন্যার সময় নিরাপদ থাকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি।
কর্মসূচির শুরুতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে শুকনো খাবার, স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী ও প্রাথমিক চিকিৎসার উপকরণ বিতরণ করা হয়। পরে মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে।
এর মধ্যে রয়েছে ভাঙা ঘর মেরামতের জন্য টিনের চাল ও বাঁশ, বিছানাপত্র ও মশারি, রান্নার চুলা ও বাসনপত্র এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা।
দারাজ বাংলাদেশের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার কামরুল হাসান বলেন, ‘দারাজ আজ অনেক পরিবারের দৈনন্দিন জীবনেরই একটা অংশ। তাই যখন সেই পরিবারগুলো কোনো দুর্যোগে পড়ে, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানোটা আমরা নিজেদের দায়িত্ব বলেই মনে করি। ত্রাণ দিয়ে আমাদের কাজ শুরু হয় ঠিকই, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য থাকে মানুষ যেন আবার নিজের মতো করে জীবন গুছিয়ে নিতে পারে।’
দারাজের নিজস্ব কর্মীরাই এ কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করছেন। পাঁচটি বিভাগ থেকে ২০ জন সহকর্মী স্বেচ্ছায় এ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। তারা ত্রাণসামগ্রী প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে দুর্গত এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রয়োজন নির্ধারণ এবং সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন।
দারাজ বাংলাদেশের চিফ পিপল অফিসার সৈয়দ আবদুল্লাহ মোরশেদ বলেন, ‘আমাদের সহকর্মীরাও তো এই কমিউনিটিরই মানুষ। তাই কেউ তাদের বলেনি যেতে হবে, নিজেরাই সময় বের করে ছুটে গেছেন দুর্গত পরিবারগুলোর পাশে। এই স্বতঃস্ফূর্ততাই বলে দেয়, আমাদের কর্মীরা যে কমিউনিটিতে কাজ করেন, তার প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা কতটা গভীর।’
মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রকল্প সমন্বয়ক সায়েম হোসেন। তিনি বলেন, ‘সাতকানিয়া আর বাঁশখালীর পাড়ায় পাড়ায় হেঁটেছি আমরা। পানি নেমে গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তার ছাপ ছিল সবখানে—দেয়ালে পানির দাগ, বেঁকে যাওয়া বা ভেসে যাওয়া টিনের চাল, বাঁশের বেড়া, হারিয়ে যাওয়া বিছানাপত্র আর হাঁড়িপাতিল।’
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রয়োজন একেক রকম। কারও প্রয়োজন নতুন চাল, আবার কারও প্রয়োজন কাঁথা-বালিশ বা রান্নার সামগ্রী। এসব প্রয়োজন বিবেচনা করে সহায়তার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে।
দারাজ বাংলাদেশ জানিয়েছে, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ তাদের জন্য নতুন নয়। ২০২৪ সালেও দেশের একাধিক জেলায় ৮৫ হাজারের বেশি বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
তবে এবারের কর্মসূচিতে তাৎক্ষণিক ত্রাণের পাশাপাশি পুনর্বাসন ও বন্যাকালীন নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ঘর মেরামত ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বন্যার জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
কেকে/ এমএস