কবীর ও লালনের মানবতাবাদী দর্শন, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বানের মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নগরীর লালনশাহ মুক্তমঞ্চে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় লালন বিশ্বসংঘ আয়োজিত এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
অনুষ্ঠানে শুরুতে অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘লালন বাংলার মাটি, মানুষ ও মানবিকতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একজন মহান সাধক। তার দর্শন মানুষে মানুষে বিভেদ ভুলে সম্প্রীতি, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। লালনের গান ও দর্শন শুধু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নয়, এটি সমাজ ও জীবনবোধেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
‘কবীর ও লালনের দর্শনে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সাম্য, মানবিকতা ও আত্মশুদ্ধির যে বার্তা রয়েছে, তা বর্তমান সময়েও প্রাসঙ্গিক। সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে এ দর্শন অনুপ্রেরণা দিতে পারে।’
রাসিক প্রশাসক আরও বলেন, ‘সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম নিজেদের শেকড় ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়। তাই লালনসহ লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। রাজশাহীতে এ উৎসব আয়োজন সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।’
অনুষ্ঠান থেকে তিনি নগরবাসীকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
লালন বিশ্বসংঘের প্রধান নির্বাহী ও লালন গবেষক আবদেল মাননানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. নাহারুল ইসলাম।
কেকে/এমএ