রোববার, ৪ অক্টোবর ২০২৬,
১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

রোববার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● মদিনায় হুতিদের হামলায় বাংলাদেশের তীব্র নিন্দা      ● সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণ শুরু কাল      ● দেশের অর্থনীতি একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে : অর্থমন্ত্রী      ● সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের বারসহ রাজধানীর চার বারে অভিযান      ● বঙ্গোপসাগরকে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে রাখতে চায় বাংলা‌দেশ : মুনীরুজ্জামান      ● গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসের আগুন নিয়ন্ত্রণে, আটকে পড়া ৬৯ শ্রমিক উদ্ধার      ● ডেঙ্গুতে আরও ছয়জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৬০৮      
খেত খামার
চাকরি নয়, আধুনিক কৃষিতে স্বাবলম্বী সোনারগাঁয়ের রমজান
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

চাকরির পেছনে না ছুটে আধুনিক কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কৃষক রমজান আলী। উন্নত জাতের বীজ, মালচিং পদ্ধতি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি। বর্তমানে মাছের ঘেরের চারপাশে মাচা তৈরি করে চাষ করছেন অমৌসুমি তরমুজ।

উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের গৌরবদী গ্রামের কৃষক ইউনুস আলীর ছেলে রমজান আলী। বিএসএস পাস করেও চাকরির পেছনে সময় না দিয়ে কৃষিকাজে মনোযোগ দেন তিনি। ২০০৯ সাল থেকে কৃষিতে হাতেখড়ি তার। এরপর ধীরে ধীরে গতানুগতিক চাষাবাদ বাদ দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন।

২০১৪ সালে ঢাকা বিভাগের প্রথম দিকের চাষিদের মধ্যে মালচিং পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন রমজান আলী। টমেটো ও চিচিঙ্গা চাষের মধ্য দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের সবজি ও ফলে যুক্ত হন তিনি। বর্তমান আবহাওয়া ও বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন।

রমজান আলী প্রায় সাড়ে পাঁচ বিঘা জমির চারপাশে মাচা তৈরি করে ‘কালাচান’ ও ‘তৃপ্তি’ জাতের তরমুজ চাষ করেছেন। মাচার নিচে রয়েছে মাছের ঘের। মাচা থেকে থোকায় থোকায় ঝুলছে হলুদ ও কালো রঙের ছোট-বড় তরমুজ। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব তরমুজ বাজারে আসার কথা রয়েছে।

তরমুজের পাশাপাশি পুকুরের পাড়ে করলা, লাউসহ বিভিন্ন ধরনের সবজিও চাষ করছেন তিনি। তার আধুনিক চাষাবাদ ও পরামর্শ নিতে স্থানীয় কৃষকরাও তার জমিতে আসছেন।

রমজান আলী বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার আগ থেকেই কৃষিকাজের প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকে পেশা হিসেবে নিয়েছি। গতানুগতিক পদ্ধতি বাদ দিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছি। ইউটিউব দেখে বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জেনেছি। পাশাপাশি কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়েছি। উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করে ফলন বাড়ানোর চেষ্টা করি। আমার উৎপাদিত ফসল যাত্রাবাড়ী ও গাউছিয়া কাঁচাবাজার এবং ফলের আড়তে বিক্রি হয়। কৃষিকাজ স্বাধীন পেশা। বর্তমানে আধুনিক কৃষি থেকে মাসে গড়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করি।’

মালচিং পদ্ধতি সম্পর্কে রমজান আলী বলেন, ‘অল্প বিনিয়োগে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে কম সময়ে কৃষক লাভবান হতে পারেন। আমি চাই, এলাকার অন্য কৃষকরাও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী হোন।’

গৌরবদী গ্রামের কৃষক জহির আলম বলেন, ‘রমজান আলী এ এলাকার কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণা। তাঁর পরামর্শে অনেকেই চাষের পদ্ধতি পরিবর্তন করে লাভবান হয়েছেন। তিনি পোকামাকড় দমনে জৈব পদ্ধতি অনুসরণ করেন। তাঁর চাষাবাদ দেখে অন্য কৃষকরাও আধুনিক কৃষির দিকে আগ্রহী হচ্ছেন।’

নোয়াগাঁও গ্রামের কৃষক আলী হোসেন বলেন, ‘এলাকাটি কৃষিপ্রধান হলেও একসময় চাষাবাদ করে কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত লাভ পেতেন না। রমজান আলী আধুনিক পদ্ধতিতে দেশি-বিদেশি সবজি ও ফল উৎপাদন করে সফল হয়েছেন। তাঁকে দেখে এবং তাঁর পরামর্শ নিয়ে এলাকার অনেক কৃষক লাভজনক কৃষিতে আগ্রহী হচ্ছেন।’

সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক বলেন, ‘তরমুজ একটি লাভজনক ফসল। স্বল্প সময়ে ফলন পাওয়া যায়। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রেখে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ করে অনুকূল পরিবেশ ও বাজারদর থাকলে লাখ টাকার বেশি আয় করার সুযোগ রয়েছে। রমজান আলীর তরমুজ চাষ এই এলাকার কৃষকদের জন্য একটি ভালো উদাহরণ। বিশেষ করে বর্ষাকালে মাচায় তরমুজ চাষ একটি উদ্ভাবনী উদ্যোগ। এতে জলাবদ্ধতা বা অনাবাদি জমিও কাজে লাগানো সম্ভব। মাচায় চাষ করায় গাছের গোড়ায় পানি জমে থাকার ঝুঁকি কমে এবং ফল মাটির সংস্পর্শে না থাকায় রোগবালাইয়ের ঝুঁকিও কম থাকে।’

কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘তরমুজ সাধারণত গ্রীষ্মকালীন ফল হলেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন বর্ষাকালেও উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে। এ সময় বাজারে তরমুজের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় কৃষক ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পান। রমজান আলীর মতো কৃষকেরা নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিতে বৈচিত্র্য আনছেন। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্যদেরও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’

কেকে/এমএস


মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খেত খামার- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close