মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬,
২১ আশ্বিন ১৪৩৩
বাংলা English
ই-পেপার

মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম: ● নির্ধারিত দামে এলপিজি না মিললে গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান      ● আজকের শিশুরাই আগামীতে দেশের নেতৃত্ব দেবে: প্রধানমন্ত্রী      ● লটারিতে ঢাকার ১৮ সাবরেজিস্ট্রার পদে বদলি      ● সৌদিতে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা তুরস্ক-পাকিস্তানের      ● নাইজেরিয়ায় বিমান বিধ্বস্ত, ৩২ আরোহীর সবাই নিহত       ● শিশুদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার : প্রধানমন্ত্রী      ● দুর্গাপূজায় ৫ দিনের ছুটি, ২২ অক্টোবরও বন্ধ থাকবে অফিস      
খেত খামার
সবুজ ফসলে সমৃদ্ধ মুজরি চর
সালাহউদ্দিন জিকু, ফটিকছড়ি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৫ পিএম আপডেট: ০৬.১০.২০২৬ ২:২২ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর প্রধান শাখা খাল ধুরুং। এ খালের বুকজুড়ে জেগে ওঠা একটি চর এখন পরিণত হয়েছে সবজি চাষের উর্বর ভূমিতে। এ চরের তিন দিক দিয়ে ইংরেজি বর্ণ ‘ইউ” আকৃতিতে বয়ে চলেছে খালের পানি। আর মাঝখানে জেগে থাকা চরের বিস্তীর্ণ জমিতে এখন সবুজের সমারোহ। চরের কোথাও শসার লতাপাতা মাটিজুড়ে ছড়িয়ে আছে, কোথাও মাচাজুড়ে ঝুলছে বরবটি ও ঝিঙা। কোনো জমিতে দুলছে লাউ, শিম, চিচিঙ্গা ও বেগুনের গাছ। এমনকি এ চরে চাষ হচ্ছে পটলও। আগাম সবজি চাষ করে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।

স্থানীয়ভাবে ‘মুজরি চর’ নামে পরিচিত এ চরটি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ও পাইন্দং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বেড়াজালীর মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত। প্রায় ১৬০ হেক্টর আয়তনের এ চরে পুরো বছর কৃষিকাজ করেন ২৪০-২৫০ জন কৃষক। তবে শুষ্ক মৌসুমে ধুরুং খালের পানি কমে গেলে তখনই চরজুড়ে শুরু হয় সবজি চাষের কর্মযজ্ঞ।

উর্বর পলিমাটিতে ফলন ভালো হওয়ায় প্রতিবছরই এ চরে বাড়ছে সবজি চাষের পরিধি। কৃষকেরা আগাম সবজি উৎপাদন করে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। খালের পানিকে ঘিরে গড়ে ওঠা এ চর যেনো মৌসুমি কৃষকের জীবনে নতুন সম্ভাবনার এক সবুজ অধ্যায়।

চরের কৃষকরা জানান, তিন পাশ দিয়ে খালের পানি প্রবাহিত হওয়ায় এখানকার জমিতে পলি পড়ে। এতে মাটির উর্বরতা বাড়ে। ফলে তুলনামূলক কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে তারা আগাম সবজি চাষ করেন। বাজারে যখন এ সব সবজির সরবরাহ কম থাকে, তখন ফসল তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ থাকে।

মুজরি চরের কৃষক মো. আফজল হোসেন আড়াই কানি জমিতে এবার বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছেন। তার জমিতে রয়েছে বরবটি, শসা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, বেগুন, লাউ, শিম ও তিতকরলা।


কৃষক আফজল হোসেন বলেন, ‘লাভের আশায় আমরা চরের জমিতে আগাম শসা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, বরবটি ও বেনটিসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করি। কিন্তু উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক সময় আমাদের উৎপাদন খরচই ওঠে না। কৃষি অফিস থেকেও প্রয়োজনীয় পরামর্শ, উন্নত বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি-সহায়তা নিয়মিত পাই না। তাই চরের কৃষকদের জন্য সরকারি কৃষি সহায়তা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় উপকরণ ও পরামর্শ দেওয়া এবং উৎপাদিত সবজির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানাই। এতে কৃষকরা আরও উৎসাহ নিয়ে চাষাবাদ করতে পারবেন এবং কষ্টের ফসলের যথাযথ মূল্যও পাবেন।’

কৃষক আলী আহমদ বলেন, ‘আমাদের এ চরে প্রায় আড়াই শত কৃষক বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। কিন্তু চরে কাজ করতে এসে হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুরু হলে কৃষকদের আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা নেই। একটি টংঘর বা ছাউনি থাকলেও দুর্যোগের সময় আমরা সেখানে আশ্রয় নিতে পারতাম। তাই কৃষকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চরে একটি টংঘর বা ছাউনি নির্মাণের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাই।’

শুধু আফজল বা আলী আহমদ নন, মুজরি চরের অধিকাংশ কৃষকই আগাম সবজি চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। তাদের লক্ষ্য, মৌসুমের শুরুতেই বাজারে ফসল তুলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া। তবে ভালো ফলন হলেই যে কৃষকের লাভ নিশ্চিত হবে, তা নয়। উৎপাদন খরচ, পরিবহন ব্যয় এবং বাজারদরের ওপর নির্ভর করে তাদের লাভ-লোকসান।

মো. মহিন উদ্দিনসহ অন্য কৃষকের অভিযোগ, উৎপাদিত সবজির সব সময় ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায় না। অনেক সময় মাঠ থেকে সবজি বিক্রির ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে বাজারে সবজির দাম বেশি হলেও কৃষকের হাতে কাঙ্ক্ষিত অর্থ আসে না। 

বর্গাচাষী মো. এরশাদ বলেন, ‘সব ধরনের কীটনাশক ও কৃষি উপকরণের দাম অনেক বেশি, কিন্তু সে তুলনায় সবজির ন্যায্য দাম পাচ্ছি না। এ বছর যদি সবজির দাম ভালো না পাই, তাহলে উৎপাদনে যে খরচ হয়েছে সেটাও তুলে আনতে পারব না। কৃষকরা এত পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েও যদি ন্যায্য মূল্য না পান, তাহলে আমাদের জন্য টিকে থাকা খুব কঠিন হয়ে যাবে।’

মুজরি চরের কৃষকদের আরেকটি বড় সমস্যা পানি। খালের পাশে চাষ হলেও সবজি খেতে প্রয়োজনের সময় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক কৃষককে নিজেদের উদ্যোগে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়। এ ছাড়া চরে কৃষকদের বসার বা বিশ্রামের জন্য কোনো ছাউনিও নেই। প্রচণ্ড রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে কাজ করতে হয় তাদের।


কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের কাছ থেকেও তারা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। নিয়মিত পরামর্শ, রোগবালাই দমন, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং বাজারজাতকরণ বিষয়ে সহযোগিতা পেলে উৎপাদন ও আয় দুটোই বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, ‘মুজরি চরের সম্ভাবনা অনেক। এখানকার মাটি বেশ উর্বর এবং সবজি চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকেরা আগাম সবজি চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন। সেচ, রোগবালাই দমন, উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক চাষাবাদ বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকেরা যাতে ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়েও তাদের সচেতন করা হচ্ছে। মুজরির চরের কৃষিকে আরও এগিয়ে নিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

ধুরুং খালের বুকে জেগে ওঠা মুজরি চর তাই শুধু একটি চর নয়। কয়েক শত কৃষকের জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এ সবুজ জমিতে এখন তারা আগাম সবজি ফলিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছেন। ফসল ভালো হবে, বাজারে ভালো দাম মিলবে, আর ঘরে ফিরবে কাঙ্ক্ষিত লাভ।

কেকে/এআই


আরও সংবাদ   বিষয়:  ফটিকছড়ি   সবুজ   ফসল   সমৃদ্ধ   মুজরি চর  
মতামত লিখুন:
Loading...
Loading...

খেত খামার- এর আরো খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আহসান হাবীব
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : বসতি হরাইজন, ১৭-বি, বাড়ি-২১ সড়ক-১৭, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ফোন : বার্তা-০২২২২২৭৬০৩৭, মফস্বল-০২২২২২৭৬০৩৬, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন-০২২২২২৭৬০২৯, ০১৭৮৭৬৯৭৮২৩, ০১৮৫৩৩২৮৫১০ (বিকাশ)
ই-মেইল: [email protected], [email protected]

© 2025 Kholakagoj
🔝
close